Thursday, February 19, 2026
বাড়িরাজ্যভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই ১২টি দোকান

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই ১২টি দোকান

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ ফেব্রুয়ারি :  ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গেল খোয়াই অফিসটিলা এলাকার চম্পা হাওর চৌমুহনী। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক বারোটা নাগাদ আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় মোট ১২টি দোকান। দগ্ধ হওয়া দোকানগুলির মধ্যে ছিল একাধিক মুদি মালের দোকান, অটো রিক্সার স্পেয়ার পার্সের দোকান, বিউটি পার্লার, লন্ড্রি সহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হঠাৎ আগুন দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় খোয়াই অগ্নিনির্বাপক দপ্তর-এর তিনটি ইঞ্জিন। পাশাপাশি খোয়াই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘বরুণ’ নামক একটি জলকামানও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হয়।

 আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে চারটি ইঞ্জিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে আগুন নেভানোর কাজ। অবশেষে অগ্নিনির্বাপক দপ্তর, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বড়সড় দুর্ঘটনা এড়িয়ে আশেপাশের বাড়িগুলিও রক্ষা পায়। খবর পেয়ে রাত আড়াইটা পর্যন্ত বহু স্থানীয় মানুষ রাস্তায় নেমে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই মহকুমার এসডিপিও ডি কুদ্রসু। তাঁর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি নিজেও আগুন নেভানোর কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, এই অগ্নিকাণ্ডে কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর নেই। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন এসডিপিও। এই ঘটনায় দোকান হারানো পরিবারগুলি ভেঙে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। বুধবার রাত বারোটা নাগাদ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা খোয়াই শহর। এই অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে খোয়াই অফিস টিলা রোড স্থিত চম্পা হাওয়ার চৌমহনী অর্থাৎ বর্ধনের দোকান এর নিকটবর্তী এলাকায়। ভয়াবহ আগুনে নয়টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এই লেলিহান আগুনের শিখায় যে সমস্ত দোকানের মালিকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারা হলেন অঙ্কুশ আচার্যী, অমল আচার্যী, রুমা দাস, রাজু দাস, মলয় রায়, স্বপন দে, সুভাষ সূত্রধর, সুরজিৎ দেবনাথ, ধনঞ্জয় মুখার্জির দোকান। মোট এই ৯ জনের দোকানের মধ্যে রয়েছে ভূষির দোকান, পানের দোকান, টেইলার, বিউটি পার্লার এবং অটো মোবাইলের দোকান। প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। যদিও রাতে তহশীলদার সহ ডিসিএম প্রাথমিক ক্ষয় ক্ষতির হিসাব নিয়ে যান। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার উপর যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অনেকেই। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড দেখতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক লোক এই ঘটনা দেখতে এলাকায় ভিড় করেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে খোয়াই জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অভেদানন্দ বৈদ্য ঘটনাস্থলে আসেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করা হয় সরকারি তরফ থেকে সাহায্য প্রদান করা হবে বলে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়টি পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। খোয়াই জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অভেদানন্দ বৈদ্যের এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা তৈরি হয়ে আছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য