স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ ফেব্রুয়ারি : আগরতলা শহরের সার্কেট হাউস এলাকা হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলির মিছিল মিটিং -এর কেন্দ্রস্থল। যখন তখন মিছিল মিটিং করে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলি। জনগণের জন্যই মিছিল মিটিং, আবার জনগণকে বেকাদায় ফেলছেন তারা। একদিকে চলছে খেলা, মেলা, অপরদিকে প্রতিবাদ মিছিলে। নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের? আসলে কি জনগণের স্বার্থে খেলা, মেলা ও মিছিল মিটিং, নাকি রাজনৈতিক দলগুলি নিজের স্বার্থে এই মিছিল মিটিং করে চলেছে? এই প্রশ্ন অবশ্যই দানা বাঁধতে শুরু করেছে সচেতন নাগরিক মহলের মনে। গত কয়েক মাস ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে কোন মিছিল মিটিং যাইহোক না কেন শহরের অন্যতম ভিআইপি রোড সার্কেট হাউসের ব্যস্ততম রাস্তাটি দখল করে আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন তথাকথিত বিপ্লবী নেতারা।
গোটা শহরে যানজট সৃষ্টি করে এই রাস্তাটি দখল করছেন তারা। বিশেষ করে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত রাস্তাটি দখল করছেন তারা। অথচ, গোর্খাবস্তি এলাকায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সদর কার্যালয়। তারপর এদিকে রয়েছে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবিপি। কয়েক মিনিট পরপর সংকটাপন্ন রোগী নিয়ে ২৪ ঘন্টা ছুটছে অ্যাম্বুলেন্স। পাশাপাশি রয়েছে শালবাগান এলাকায় কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর একাধিক ক্যাম্প। দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা লাগাতার মিছিল মিটিং চলার কারণে রাস্তাটি পুরোপুরি ভাবে বন্ধ থাকে। সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হয় দুর্গা চৌমহনি-বড়জলা রোড দিয়ে। যার ফলে যানজট চরম আকার ধারণ করে। মঙ্গলবার ছিল কংগ্রেসের কর্মসূচি। রাস্তাটি দখল করে কয়েক ঘন্টা চলে কংগ্রেসের মিছিল ও সভা। যার কারণে হাসপাতাল থেকে পর্যন্ত নবজাতক শিশুকে নিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়েছে রোগী এবং রোগীর পরিবারের লোকজনদের।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে সিবিএসই -র মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে ছাত্রছাত্রীদের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। গত কয়েক মাসে তিপরা মথার একাধিক কর্মসূচি এই রাস্তা দখল করে হয়েছে। একই সঙ্গে শাসক দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে। এক প্রকার ভাবে রাস্তা দখল করেই চলেছে তাদের কর্মযজ্ঞ। এমনটাই দাবী সচেতন নাগরিক মহলের। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার সময় পর্যন্ত তারা কোন সুযোগ হাতছাড়া করছেন না। প্রশ্ন আসলেই কি জনগণের স্বার্থ নাকি দলের স্বার্থ? কোন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে শাসক, বিরোধী সবকটি রাজনৈতিক দল? যাইহোক পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আঙ্গুল তুলতে শুরু করেছে সচেতন নাগরিক মহল। এত ব্যস্ততম রাস্তা দিয়ে কিভাবে দখল করে রাজনৈতিক দলগুলি কর্মসূচি করার সুযোগ পায়?

