স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৩ ফেব্রুয়ারি : কেন্দ্রীয় সরকার যখন রেগার নাম পরিবর্তন নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই প্রাপ্য কাজ না পেয়ে আন্দোলনে সামিল হতে বাধ্য হচ্ছে রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ের রেগা শ্রমিকরা। ঘটনা করবুক ব্লকের অন্তর্গত মডেল ভিলেজের তকমা লাগানো উত্তর একছড়ি এডিসি ভিলেজে। বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কাজ না পেয়ে ভিলেজ কমিটি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনের শামিল হয় এলাকার প্রমিলা বাহিনী।
কিন্তু রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি অনেক আংশিক রেগার কাজের উপর নির্ভরশীল। রেগায় শ্রম দিবস সৃষ্টি হলে গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষদের হাতে টাকা আসে। কিন্তু করবুক ব্লকের অন্তর্গত মুখ্যমন্ত্রী মডেল ভিলেজ হিসেবে পরিচিত উত্তর একছড়ি এডিসি ভিলেজে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেবলমাত্র ১০ দিনের শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে। এম জি এন রেগা প্রকল্পে ১০০ দিনের কাজ প্রদানের গ্যারান্টি দেওয়া হলেও ওই ভিলেজ এলাকার শ্রমজীবী মানুষ কেবলমাত্র ১০ দিনের কাজ পেয়েছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ কাজের দাবি জানিয়ে বহুবার পঞ্চায়েতে আবেদন জমা করলেও তারা কাজ পাচ্ছে না।
পঞ্চায়েত সচিব ও রেগার কাজের দায়িত্বে থাকা জিআরএস আজ হবে কাল হবে বলে তাদের শুধু হয়রানি করছে বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ জিআরএস মনোরঞ্জন চাকমা প্রায় সময়ই পঞ্চায়েতে অনুপস্থিত থাকে। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য ভিলেজ গুলিতে রেগার কাজ করানো হলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে মডেল ভিলেজ হিসেবে পরিচিত উত্তর একছড়ি এডিসি ভিলেজে কেন রেগার কাজ করানো হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এলাকার মানুষ। কোন উপায় বুঝতে না পেরে এলাকার মহিলারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উত্তর একছড়ি এডিসি ভিলেজ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পঞ্চায়েতের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ আন্দোলনের শামিল হয় এলাকার প্রমীলা বাহিনী। মহিলারা জানান রেগার কাজের উপরেই পরিবারের অর্থনীতি নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত রেগার কাজ না পাওয়ায় তাদের পরিবার প্রতিপালন করতে প্রচন্ড অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তাই তারা কাজ পাওয়ার দাবিতে পঞ্চায়েতে তালা ঝুলাতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে মহিলাদের আন্দোলনের খবর পেয়ে পর্বত মহকুমা প্রশাসনের ডিসিএম দিবাকর জমাতিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। আন্দোলনরত মহিলাদের অসন্তোষের কারণ শুনে ডিসিএম তাদের আশ্বস্ত করেন যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ডিসিএম এর প্রতিশ্রুতি পেয়ে মহিলারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ না পাওয়া গেলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন এলাকার প্রমীলা বাহিনী। বিকশিত ভারতের স্লোগান দিয়ে এমজিএন রেগার নাম পরিবর্তন করে জি রাম জি করা হয়েছে। প্রকল্পের নাম পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের কি উপকার হবে তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশায় শ্রমিকরা। তবে শ্রমজীবী মানুষের স্পষ্ট বক্তব্য প্রকল্পের নাম যা-ই হোক না কেন তারা যেন তাদের কাজের অধিকার পায়।

