স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ১৩ ফেব্রুয়ারি : অপরাধমূলক মানহানির মামলায় ইতিমধ্যেই একবার রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ বাতিল হয়েছে। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে স্বমহিমায় ফিরেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এবার ফের রাহুলের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি তুলে হল্লা শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ইতিমধ্যেই রাহুলের সাংসদ পদ বাতিলের দাবিতে নোটিসও দিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এভাবে কি নির্বাচিত কোনও সাংসদের পদ কাড়া সম্ভব? কী বলছে নিয়ম? বস্তুত, নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সদস্যপদ কাড়াটা বেশ সময়সাপেক্ষ এবং জটিল। বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে এই সদস্যপদ বাতিল করানোর।
১। নোটিস জমা: কোনও সাংসদের বিরুদ্ধে নিয়মবিরুদ্ধে কাজের অভিযোগ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গ বা সাংসদ পদ বাতিলের নোটিস দিতে হয়।
২। এথিক্স কমিটি: সাংসদ পদ বাতিল করার সেই প্রস্তাব পাঠানো হয় সংসদের এথিক্স কমিটিতে। এই এথিক্স কমিটিই পুরো অভিযোগ খতিয়ে দেখে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হয়।
রাহুলের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি বিজেপির, এভাবে কি পদ কাড়া সম্ভব? কী বলছে নিয়ম?
3 তদন্ত এথিক্স কমিটি তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করার চেষ্টা করে। যে সাংসদের বিষয়ে অভিযোগ তাঁকেও বলার সুযোগ দেওয়া হয়। তদন্তের পর নিজেদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আকারে জমা দেয় ওই কমিটি।
৪। রিপোর্ট জমা: লোকসভায় ওই রিপোর্ট পেশ করা হয়। যদি অভিযুক্ত সদস্যের সাংসদ পদ বাতিলের পরামর্শ দেওয়া হয়, তাহলে সেই নিয়ে সংসদে ভোটাভুটি হয়।
৫। ফলাফল: সাংসদ পদ বাতিল হওয়াটা পুরোটাই নির্ভর করে ভোটাভুটির পর। শেষ পর্যায়ে ওই ভোটাভুটিতে যদি অভিযুক্ত সাংসদের বিপক্ষে ভোট যায় তাহলে সাংসদ পদ বাতিল হয়। সাংসদ পদ থাকার পক্ষে ভোট গেলে সেটা বাতিল হয় না।
অতীতে এই পদ্ধতিতেই একাধিক সাংসদের পদ গিয়েছে। যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ মহুয়া মৈত্র। রাহুলের ক্ষেত্রেও সাংসদ পদ বাতিল করতে একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। অবশ্য বিজেপির হাতে যা সংখ্যাবল আছে তাতে তারা চাইলে রাহুলের বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনে তাঁর পদ বাতিল করতেই পারে। বিরোধী দলনেতার অবশ্য দাবি, এই ধরনের প্রস্তাব এনে বা সাংসদ পদ বাতিলের ভয় দেখিয়ে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি যে অপ্রিয় প্রশ্ন তোলা শুরু করেছেন, সেগুলি চলবেই।

