স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ ফেব্রুয়ারি : কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটের প্রভাব পড়ল না রাজ্যে। আগরতলা শহরে যান চলাচল স্বাভাবিক। বাজার হাট, অফিস আদালত সর্বত্র খোলা। সরকারি নিয়ম মেনে ধর্মঘট উপেক্ষা করে সরকারি অফিস খোলা। সকাল থেকেই অফিসের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় কর্মচারীরা। রাজ্যেও এই ধর্মঘটকে সফল করার আহ্বান জানিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে প্রচার চালিয়েছে বামফ্রন্ট সহ একাধিক শ্রমিক সংগঠন। বৃহস্পতিবার সকালে ধর্মঘটের সমর্থনে মেলারমাঠ সিপিআইএম অফিসের সামনে থেকে বের করা হয় মিছিল।

এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, সিআইটিইউ-র রাজ্য সভাপতি মানিক দে সহ অন্যান্যরা। এদিন মেলার মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে পুনরায় মেলার মাঠে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন নরেন্দ্র মোদী সরকার দেশের সম্পদ বিদেশিদের কাছে বিক্রয় করে দিচ্ছে। শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই দেশের শ্রমিক শ্রেণী এইদিন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। দেশের কৃষকরাও আগামিদিতে কৃতদাসে পরিণত হবে। তাই এই ধর্মঘটকে দেশের সকল কৃষক ক্ষেত মজুর দিন মজুর সমর্থন জানিয়েছে। অপরদিকে বামেদের দুর্বল ভেবে ধর্মঘটের দিন সকাল দশটা পর্যন্ত ঘরে রইল শাসক দল। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হতেই হাত পা ঝারা দিয়ে মাঠে নামলেন শাসকদলের কার্যকর্তারা।বিজেপির পক্ষ থেকে ধর্মঘটের বিরোধিতা করে আগরতলা শহরে মিছিল সংগঠিত করা হয়। পাশাপাশি মেলারমাঠ সিপিআইএম অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বড়দোয়ালি মণ্ডলের সভাপতি শ্যামল কুমার দেব সহ অন্যান্যরা। শ্যামল কুমার দেব জানান গণতান্ত্রিক দেশে সকলের অধিকার রয়েছে নিজেদের মতো করে কথা বলার। কিন্তু সাধারন মানুষকে কোন ভাবে হয়রানী করা যাবে না। তবে এইদিনের ধর্মঘট সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষ বর্তমানে ধর্মঘটকে সমর্থন করে না বলে জানান তিনি। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের ডাকা এইদিনের কর্মনাশা ধর্মঘট সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কারন সাধারন মানুষ এই ধর্মঘটকে সমর্থন করে নি। যার কারনে এইদিন দোকানপাট, স্কুল কলেজ, অফিস আদালত সবকিছু ছিল খোলা। যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। ধর্মঘট ঘিরে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।

