Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু জেঠু–ভাইপোর

ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু জেঠু–ভাইপোর

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৫ জানুয়ারি :  আতঙ্কের আরেক নাম পাথর বোঝাই ডাম্পার। অল্পবয়সী চালক, কাগজপত্রহীন গাড়ি এবং বেপরোয়া গতির জেরে ত্রিপুরার উত্তর জেলার মানুষ আজ আতঙ্কে। অনেকেই এই ডাম্পারকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘মরণ গাড়ি’ বলে। একের পর এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ। সম্প্রতি ত্রিপুরা–অসম সীমান্তের ঝেরঝেরী এলাকায় পাথরবোঝাই ডাম্পারের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ডাম্পারের বলি হলেন জেঠু ও ভাইপো। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে চুরাইবাড়ি থানাধীন শনিছড়া বাজার সংলগ্ন ৮ নম্বর অসম–আগরতলা জাতীয় সড়কে। মৃতরা হলেন বাগবাসা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তপন দাম, বয়স ৫৩ এবং তার ভাইপো আয়ুষ দাম, বয়স ১৪।

জানা গেছে, শনিবার রাতে তপন দাম তার ভাইপো আয়ুষকে নিয়ে বাড়ি থেকে শনিছড়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাতেই পেছন দিক থেকে আসা একটি তীব্র গতির পাথরবাহী খালি ডাম্পার তাঁদের দু’জনকে সজোরে ধাক্কা মেরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষজন ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে শনিছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আয়ুষ দামকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জেঠু তপন দামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরও মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর চুরাইবাড়ি থানায় খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে সময়মতো না পৌঁছানোয় ক্ষুব্ধ জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠে। বিক্ষুব্ধ মানুষজন জাতীয় সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে বসেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে মুহূর্তের মধ্যেই।

 ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক যাদব লাল নাথ। তবে তাঁর উপস্থিতিতেও অবরোধকারীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি, বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কেন ঘটনাস্থলে পৌঁছাল না। পাশাপাশি তাদের জোরালো দাবি—জাতীয় সড়কে ডাম্পার গাড়ির বেপরোয়া গতির কারণেই বারবার প্রাণহানি ঘটছে। তাই রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক দিয়ে ডাম্পার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। পরবর্তীতে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁর আশ্বাসের পরই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এদিকে চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ অভিযুক্ত TR05C-1847 নম্বরের পাথর বাহী ডাম্পার সহ চালককে। ধৃত চালকের নাম জোয়েল আহমেদ (৩৫)। পিতা—সোনাফর আলী। বাড়ি পানিসাগর থানাধীন রামনগর এলাকায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা বাগবাসা ও শনিছড়া এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একই সঙ্গে এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ। বারবার ঘটতে থাকা ডাম্পার দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য