স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ জানুয়ারি : সুশাসন জামানায় শাসক দলের মন্ডল নেতা, বুথ সভাপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্লাবের কতিপয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ আম জনগণ। জমি ক্রয় বিক্রি করতে গেলেই তাদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। জমির উপর নির্ভর করে পার্সেন্টেজ দিতে হয় বকলম নেতাদের। না হলে কেউ জমি ক্রয় করতে পারবে না, জমি আবার বিক্রিও করতে পারবে না। প্রয়োজনে তারা জমির দখল করে নেবে। এই যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ শাসক দলের বড় নেতাদের ছত্রছায়ায় গজিয়ে ওঠা চুনুপতিরা।আগরতলা শহরের অলিগলি সর্বত্র তাদের যন্ত্রণা মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। এবার এক বুথ সভাপতি ছেলে পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশের হাতে আটক হল।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার বাবা পথ সভাপতির কৃষ্ণ সরকারের সঙ্গে এবং তার মার সঙ্গে মিশে এলাকায় জমি ক্রয় করা মা মেয়ের উপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। জানা যায়, প্রতাপগড় চৌমুহনি বাজার এলাকার বাসিন্দা ইতি দাস প্রতাপগড় শ্যামসুন্দর পাড়া একটি জমি ক্রয় করে স্থানীয় রাষ্ট্রবাদী দলের জমি মাফিয়াদের হাতে আক্রান্ত। অভিযোগ বিজেপি ১২ নাম্বার বুথ সভাপতি কৃষ্ণ সরকারকে না দেওয়ার কারণে ইতি দাস ও তার মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে তারা। জানা যায়, জমি ক্রয় করার পর ৯৬ হাজার টাকা দাবি করেছিল জমি মাফিয়া বুথ সভাপতি এবং তার নেতৃত্বে থাকা রাষ্ট্রবাদীরা। এই বোথ সভাপতির পরিচয় হলো তিনি ১৩ প্রতাপগড় মন্ডলের বিজেপি ১২ নং ওয়ার্ডের বুথ সভাপতি কৃষ্ণ সরকার। তার সঙ্গে জড়িত তার ছেলে জিৎ সরকার ও তার স্ত্রী অপর্না সরকার।
বহু কষ্ট করে জমি ক্রয় করার পর বিশাল অংকের বোঝা ইতির পরিবারের উপর চাপিয়ে দেওয়া হলে রবিবার ইতি দাস তার মেয়েকে নিয়ে কৃষ্ণ সরকারের বাড়িতে যান তিন হাজার টাকা নিয়ে। তখন বুথ সভাপতি কৃষ্ণের পরিবার অতর্কিত আক্রমণ চালায় ইতি এবং তার মেয়ের উপর। কোনক্রমে প্রানে বেঁচে এসে রবিবার রাতে পূর্ব মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন ইতি দাস। সোমবার বুথ সভাপতি ছেলে থানায় আসলে তাকে আটক করে পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ। এদিকে আশ্চর্যের বিষয় হলো নির্লজ্জ বুথ সভাপতি সোমবার বিকেলে থানায় এসে আবার পাল্টা মামলা করেন ইতি দাসের বিরুদ্ধে। ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে জমির দালালি করার কথা সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে স্বীকার করলেন। শুধু তাই নয়, তার ছেলেকে বাঁচাতে মন্ডল সভানেত্রী স্বপ্না দাস উঠে পড়ে লেগেছে সেটাও জানান দিলেন। তিনি বলেন স্বপ্না দাস ফোন করে মন্ডলে যেতে বলেছেন ছেলেকে পুলিশের হাত থেকে মুক্ত করতে। নির্লজ্জ, মুখোশধারী জনপ্রতিনিধি কৃষ্ণ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিষয়টি হল তিনি জমি ক্রয় করার পর ইতিকে বলেছিলেন এমন অংকেই চাওয়া হবে যাতে বুথ এবং স্থানীয় প্রতাপগড় বয়েজ ক্লাব অর্ধেক করে ভাগাভাগি করতে পারে। তাই তাকে জানিয়ে যেন ক্লাবের দালালদের টাকা মেটাতে যায়। কিন্তু ইতি নামে অসহায় মহিলা ক্লাবের দালালদের অর্থ মেটানোর পর তিনি যখন টাকা চাইলেন তখন বাক বিতন্ডা ঘিরে উত্তেজিত হয়েছেন। এদিকে প্রতাপগড় বয়েজ ক্লাবের পক্ষ থেকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করা হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে মহিলার কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি। যেহেতু তিনি গরীব মানুষ, তাই ৩০০০ টাকা কালী পূজার চাঁদা হিসেবে চাওয়া হয়েছিল। সরাসরি শাসক দলের দিকেই আঙ্গুল তুলে দিলো ক্লাব কর্তৃপক্ষ। শাসকদলের এই জন প্রতিনিধিদের জন্য মানুষ অসহ্য হয়ে পড়েছে। দিকে দিকে তাদের দালালির ব্যবসা দিনদিন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। দলের হাই কমান্ড পর্যন্ত এই বিষয়ে অবগত রয়েছেন। কিন্তু কেন কোন রকম ব্যবস্থা নেওয়ার নাম গন্ধ নেই সেটা সকলের জানা। আর লক্ষ্য করা যায় এদিন স্থানীয় কিছু ভক্তদের নিয়ে এসেছিলেন থানায় বুথ সভাপতি। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো পুলিশ হাতের কাছে পেয়ে কেন বুথ সভাপতিকে জালে তুলছে না? পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশের কি কোন অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে নাকি তারাও নির্লজ্জ দালালদের ভক্ত হয়ে গেছে? এ ঘটনাগুলি স্পষ্ট করে মন্ত্রীরা বুকে ঠুকে সুশাসনের দাবী করলেও নেতাদের জমির দালালি ও মাফিয়া গিরির জন্য দুঃশাসনে রাজ্য গ্রাস হয়ে আছে। এমনটাই গুঞ্জন গোটা প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্র সহ রাজনৈতিক মহলে। যাইহোক দুঃশাসনের কাছে মেরুদন্ড বাঁকা পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশের। থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে বুথ সভাপতি দাবি করলেন তিনি জমির দালালি করেন। টাকার জন্য মহিলার উপর উত্তেজিত হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা থাকলেও পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ গ্রেফতার করছে না। বুথ সভাপতি ছেলেকে বাঁচাতে মাঠে নামলেন প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের মন্ডল সভানেত্রী স্বপ্না দাস।

