Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যবিশ্বের দরবারে ত্রিপুরা লজ্জিত হওয়ার পর মন্ত্রী গেলেন সিপাহীজলা অভয়ারণ্যে

বিশ্বের দরবারে ত্রিপুরা লজ্জিত হওয়ার পর মন্ত্রী গেলেন সিপাহীজলা অভয়ারণ্যে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ জানুয়ারি : সিপাহীজলা অভয়ারণ্য নিয়ে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে সংবাদ মাধ্যম দ্বারা অভিযোগ পেয়ে পরিদর্শনে গেলেন বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। শুক্রবার বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা সিপাহীজলা অভয়ারণ্য পরিদর্শন করে সেদিনের প্লাস্টিকের বিষয়ে কর্মীদের কাছ থেকে অবগত হন। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। তারপর তিনি বলেন, খবরের মাধ্যমে গত ৮ জানুয়ারি তিনি জানতে পেরেছেন, হলেন্ড থেকে বিদেশী পর্যটক রাজ্যে এসে বলছেন সিপাহীজলার ভেতর যেখানে সেখানে প্লাস্টিক ফেলা হচ্ছে। যার ফলে অস্বাস্থ্যকর একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে আছে অভয়ারণ্যের ভেতর। তারপর শুক্রবার অভয়ারণ্য পরিদর্শনে এসে দেখতে পেলেন প্লাস্টিক সামগ্রী নেই।

 হয়তোবা সেদিন কোন একদল পর্যটক এসে যত্রতত্রভাবে প্লাস্টিক বোতল সহ প্লাস্টিকের অন্যান্য সামগ্রী ফেলে গেছেন। তাই যত্রতত্রভাবে প্লাস্টিক না ফেলার দায়িত্ব নিতে হবে সমস্ত পর্যটকের। এটা প্রশাসন এবং অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষ চাইলেই একা পক্ষে যত্রতত্রভাবে প্লাস্টিক ফেলা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, আগামী দিন অভয়ারণ্যের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সাফাই দৈনিক চারবারের জায়গায় আটবার করা হবে, কিন্তু তারপরও পর্যটকরা অভয়ারণ্যে এসে যাতে সচেতন থাকেন। আগামী দিন সিপাহীজলা অভয়ারণ্য নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ডোনার মন্ত্রক থেকে ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে সিপাহীজলা অভয়ারণ্যের জন্য। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল জো থেকে মাস্টার প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। যাতে আগামী দিন সমস্ত ক্ষেত্রে বিশ্বমানের একটি অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেইদিক চিন্তা ভাবনা করে কাজ করছে সরকার।

 পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী লাল এবং সবুজ রংয়ের ইউজ মি বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে অনুরোধ করে পর্যটকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যারাই অভয়ারণ্যে আসবেন তারা অবশ্যই আবর্জনা এবং পরিত্যক্ত জিনিস ইউজমি বক্সের মধ্যে ফেলবেন। উল্লেখ্য, সিপাহীজলা অভয়ারণ্যে প্রতিদিন কয়েক শতাধিক পর্যটক আসে। শীত মরশুমে হাজার হাজার পর্যটক অভয়ারণ্যে আসে। যত্রতত্রভাবে পরিত্যক্ত সামগ্রী ফেলার কারণে জরিমানার নির্দেশিকা বলবৎ করার জন্য দাবি উঠছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে যদি কতিপয় বকলম পর্যটকদের জন্য কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় এবং অভয়ারণ্যের আশেপাশে ও বাইরে দোকানগুলির মধ্যে প্লাস্টিকের ঠান্ডা পানীয় এবং জলেরয় বোতল সহ প্লাস্টিক কেরিব্যাগ বিক্রি বন্ধ করা যায় তাহলে হয়তো ত্রিপুরা বিশ্বের কাছে আগামী দিন আর লজ্জিত হবে না। এখন দেখার বিষয় আগামী দিন বিশেষ করে মহকুমা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য, বনমন্ত্রী হওয়ার পর মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা কতবার সিপাহীজলা, গোমতী, তৃষ্ণা এবং রোয়া অভয়ারণ্যে গিয়েছেন সেটা মন দিয়েই ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু রাজ্যের মন্ত্রী বাহাদুরদের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ এবং গাড়ি থেকে বের হয়ে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এড়িয়ে তাদের নিজ নিজ দপ্তরের সঠিক দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। অভয়ারণ্যগুলি সঠিকভাবে যদি দফতরের মন্ত্রীরা পূর্বতন সরকারের আমল থেকে নিয়মিত পরিদর্শনে যেতেন তাহলে বিশ্ব মানের অভয়ারণ্য আরো আগেই বাস্তবায়ন হতো। বর্তমানে তৃষ্ণা অভয়ারণ্যে গিয়ে বাইসনের দেখা পাওয়া ভগবান দর্শনের মত। বিদেশ থেকে বহু পর্যটক বাইসন দেখতে আসে তৃষ্ণা অভয়ারণ্যে। অথচ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হা করে তাকিয়ে থাকলো বাইসনে দেখা পায় না। সুতরাং কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে অভয়ারণ্যের গুলির থেকে নজর দেওয়া প্রয়োজন মন্ত্রী এবং দপ্তরের আধিকারিকদের।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য