স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ জানুয়ারি : শুক্রবার উদয়পুর রমেশ ইংরেজি মাধ্যম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্লাটিনাম জুবিলি উৎসবের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শুক্রবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্লাটিনাম জুবিলি উৎসবের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, রমেশ স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বহু প্রজন্মের ছাত্রছাত্রী গড়ে তোলার এক ঐতিহ্যবাহী পীঠস্থান।
গত ৭৫ বছরে এই বিদ্যালয় রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে অবদান রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার নতুন ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলছে। জাতি জনজাতির সব অংশের মানুষকে নিয়ে আগামী দিন ত্রিপুরায় থানসা করতে চায় সরকার। এর কান্ডারী হবে আজকে ছেলেমেয়েরা।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা পথে চলার পাশাপাশি মনের শান্তি বজায় রাখতে আধ্যাত্মিকতার সংযোগ ঘটানোর পরামর্শ দেন। ভারতকে একটি গ্লোবাল এডুকেশন হাব হিসাবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন ত্রিপুরা সরকার তা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীন ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফলে অভাবনীয় উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। রাজ্যের শিক্ষার মন্নোয়নে বর্তমান সরকার গৃহীত একগুচ্ছ পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান মিশন মুকুল ও নিপুন ত্রিপুরা প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার বুনিয়াদ শক্ত করতে এই প্রকল্পগুলো কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মিশন ঘাটতি মেটাতে বিদ্যা সেতু মডিউল কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে। তিনি বলেন জনজাতি এলাকায় ৪৭ টি নতুন ছাত্র-বাস নির্মাণ এবং প্রতি ব্লকে একলব্য বিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান। যে সমস্ত সরকারি অনুদান প্রাপ্ত বিদ্যালয় রয়েছে সেই সমস্ত বিদ্যালয় গুলিতে আরো শিক্ষক কিভাবে নিয়োগ করা যায় সে বিষয়ে সরকার চিন্তা ভাবনা করছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ছাত্রীদের শিক্ষা ক্ষেত্রে গতিশীল শিক্ষা বাড়াতে বাইসাইকেল প্রদান করা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে বলে জানান। আধুনিক শিক্ষা প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরে গুণগত শিক্ষায় শিক্ষিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ছাত্র-ছাত্রীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সি বি এস ই -র ধাচে পড়াশুনা করতে পারলে ছাত্র-ছাত্রীরা যেকোনো রাজ্যে গিয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খেতে পারে। তাই ত্রিপুরা সরকার সি বি এস ই -র পঠন-পাঠনের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দিচ্ছে না, খাচ্ছি না, জল নেই বলে তারা যে আন্দোলন এবং অভিযোগ তুলছে তাতে তারা স্টেশনেই পড়ে থাকবে। আর ডাবল ইঞ্জিনকে ধরতেও পারবে না। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায়। অনুষ্ঠানে এছাড়াও ছিলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ আধিকারিকরা। এদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা।

