স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ ডিসেম্বর : ধর্মনগর থানার অন্তর্গত কালিকাপুর এলাকায় এক মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত মহিলার নাম রত্না নাথ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে আসাম রাজ্যে দীলিপ মজুমদারকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা রত্না নাথ। বিয়ের পর প্রায় ১৩ বছর স্বামীর সঙ্গে সংসার করেন তিনি।
প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ করেই নিজের দুই মেয়েকে নিয়ে কালিকাপুরে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন রত্না। এরপর বাবার বাড়িতে বসবাস করলেও একই এলাকার বাসিন্দা নীলমোহন নাথের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। গত এক মাস ধরে রত্না বাবার বাড়িতে না এসে নীলমোহন নাথের বাড়িতেই থেকে কাজ করছিলেন। শুক্রবার সকালে নীলমোহন নাথের বাড়ির যে ঘরে রত্না নাথ ঘুমাতেন, সেই ঘরের দরজা দীর্ঘক্ষণ খোলা না থাকায় সন্দেহ হয় বাড়ির লোকজনের। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। পরে বাড়ির মালিক ও এলাকাবাসী মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিছানায় নিথর অবস্থায় রত্না নাথকে পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রত্নার বাবার বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং নিশ্চিত হন যে রত্না আর বেঁচে নেই। সঙ্গে সঙ্গে ধর্মনগর মহিলা থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য। বর্তমানে মৃতদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আগামীকাল ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে রত্না নাথের মৃত্যু আত্মহত্যা না কি স্বাভাবিক—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঠিক তদন্ত ও সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন কালিকাপুর এলাকার।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান