স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ ডিসেম্বর : শুক্রবার ভোরে ব্যাঙ্গালোরে প্রয়াত হয়েছেন ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন। এ খবর আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা রাজ্যে। গত কয়েক মাস আগে তিনি ধর্মনগর যাওয়ার সময় আগরতলা রেল স্টেশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আইএলএস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় অধ্যক্ষকে। আইএলএস হাসপাতালে সেদিন রাতের বেলায় অস্ত্রপ্রচারের পর অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যাঙ্গালোরে।
সেখানে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। গত কয়েক মাস ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি। শুক্রবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই খবর রাজ্যে এসে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। মুখ্যমন্ত্রী নিজ সামাজিক মাধ্যমে শোক জ্ঞাপন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন অধ্যক্ষের অকাল প্রয়ানে রাজ্যবাসী এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার এ অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিনি সুস্থ ছিলেন। কিন্তু দুপুর দুটা নাগাদ আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর শুক্রবার ভোরে মৃত্যু হয় অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উনাকে বাঁচানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টাই করা হয়েছিল। কিন্তু এই অকাল-প্রয়ানে ত্রিপুরাবাসীর জন্য এবং ত্রিপুরা বিধানসভার জন্য একটা বিশাল বড় ক্ষতি হয়েছে। ত্রিপুরা বিধানসভা অধিবেশন যেভাবে তিনি পরিচালনা করতেন তা আগামী দিনে ইতিহাস হয়ে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, শনিবার বেঙ্গালুরু থেকে সকাল ৯ টার বিমানে আগরতলায় আনা হবে মরদেহ। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ সরকারি ছুটি থাকবে।
শুক্রবার থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনদিন রাজ্য জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এই সময়কালে রাজ্য জুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী সিপিআইএমের পক্ষ থেকে শোক জ্ঞাপন করেন। বিরোধী দলনেতা বলেন আজ ভোরে ব্যাঙ্গালোরে প্রয়াত হয়েছেন রাজ্যের অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন। তিনি এ খবর পেয়ে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে শোক জ্ঞাপন করার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন সহ উনার দলের প্রতি সমবেদনা জানানো হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববন্ধু সেন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মধ্যে থাকাকালীন অবস্থায় বিশ্ববন্ধু সেন বিরোধী দল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি বিধায়ক হয়েছিলেন।
তারপর তিনি বিধানসভার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ওনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জনস্বার্থে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হতো বিধানসভার ভেতরে। রাজনৈতিক ও মতাদর্শগতভাবে উনার সঙ্গে আলাদা হলো ব্যক্তিগত জীবনে সুসম্পর্ক ছিল বলে জানান বিরোধী দলনেতা। কিন্তু আজকে অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের প্রয়ানে চিরতরে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল বলে স্মৃতির প্রতি শোক প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা। শনিবার মৃতদেহ রাজ্যে আনার পর ত্রিপুরা বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বিধানসভার সদস্যরা প্রয়াত বিধায়ককে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। তারপর দলীয় কার্যালয়ে আনার কথা রয়েছে। তারপর নিয়ে যাওয়া হবে ধর্মনগরে বলে সূত্রে খবর। তারপর এদিনই তাঁর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ২৬-২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত সমস্ত সরকারি কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

