Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যমেয়েকে বাঁচাতে সকলের সাহায্য চাইলেন হত দরিদ্র বাবা

মেয়েকে বাঁচাতে সকলের সাহায্য চাইলেন হত দরিদ্র বাবা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ ডিসেম্বর :  মেয়ের চিকিৎসার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে সহযোগিতা চাইলেন এক অসহায় পিতা। জোলাইবাড়ির শান্তিনিকেতন পাড়ার বাসিন্দা প্লাবন ভৌমিক। স্ত্রীর নাম শুভ্রা সিনহা। তাদের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে সুপ্রিতা জন্ম লগ্ন থেকে দুরারোগ্য ব্যাধি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। প্রতি মাসে তাকে দুই থেকে তিন বার রক্ত দিতে হয়। হত দরিদ্র মা-বাবা মেয়েকে বাঁচাতে অতিকষ্টে বছরের পর বছর ধরে মেয়ের চিকিৎসা করিয়ে যাচ্ছেন। মাসে দুই থেকে তিন বার মেয়ের জন্য রক্তের যোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মা-বাবা। বর্তমানে সুপ্রিতার বয়স ৯ বছর।

 কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সুস্মিতা মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। হত দরিদ্র মা-বাবা মেয়েকে বাঁচাতে নিজেদের সহায় সম্বল বন্ধক দিয়ে একাধিকবার বহিঃরাজ্যের নামি দামি হাসপাতালে ছুটেছেন। সর্বশেষ তারা মেয়েকে নিয়ে যান সি এম সি ভেলোর হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে হত দরিদ্র মা-বাবা কিছুটা আশার আলো দেখতে পান। কারন সেখানে সুপ্রিতার স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার পাশাপাশি সুপ্রিতার ছোট বোনের স্যাম্পল সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষার রিপোর্ট আসে পজেটিভ। অর্থাৎ সুপ্রিতার সাথে তার ছোট বোনের জিনগত ১০০ শতাংশ মিল রয়েছে। সুপ্রিতার স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন করলে সে সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারবে। এই ক্ষেত্রে সুপ্রিতার ছোট বোন স্টেম সেল দিতে পারবে। কিন্তু এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। এই চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ১৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হবে। তার বাইরে সুপ্রিতাকে নিয়ে তার মা-বাবাকে সেখানে ৩ থেকে চার মাস থাকতে হবে। অর্থাৎ চিকিৎসা বাবদ ১৬ লক্ষ টাকার পাশাপাশি আরও ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে ২১ থেকে ২২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু হত দরিদ্র মা-বাবার কাছে অবশিষ্ট কিছুই বেচে নেই যা বিক্রয় বা বন্ধক দিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করাবেন। তারপরও মেয়ের চিকিৎসার অর্থ যোগার করার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন হত দরিদ্র বাবা প্লাবন ভৌমিক। পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু বান্ধব এমনকি রাজ্য বাসীর কাছে সাহায্য চাইছেন। সি এম সি ভেলোর হাসপাতালের চিকিৎসকরা ইতিমধ্যে সুপ্রিতার স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন-এর জন্য ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি দিনক্ষণ ঠিক করে দিয়েছেন। পিএম কেয়ার ফান্ড থেকে সুপ্রিতার চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে ৩ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিতার হত দরিদ্র বাবা প্লাবন ভৌমিক এখনো মেয়ের চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ টাকার যোগান করতে পারেন নি। তাই তিনি সকলের প্রতি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। হত দরিদ্র বাবার একটাই আশা সকলের সাহায্য ও আশীর্বাদে ওনার মেয়ে সুপ্রিতা নতুন করে জীবন ফিরে পাবে।

সুপ্রিতার চিকিৎসার জন্য জোলাইবাড়ির যুবকরা একত্রিত হয়ে ইতিমধ্যে ওয়াটঅ্যাপ গ্রুপ খোলে তার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে। কয়েকটি এনজিও নিজেদের মতো করে অর্থ সংগ্রহ করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু তার পরও সুপ্রিতার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান এখনো পর্যন্ত হয় নি। সুপ্রিতার চিকিৎসার জন্য এখনো ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ঘাটতি রয়েছে। সুপ্রিতার মা-বাবা যেমন চাইছেন সকলে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। তেমনি আপামর জোলাইবাড়িবাসি চাইছে রাজ্যের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা সহ মন্ত্রী সভার সকল সদস্য এবং রাজ্যের সকল সহুদয়বান ব্যক্তিরা একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। যাতে করে নতুন জীবন ফিরে পায় সুপ্রিতি। সকলের একটু একটু সাহায্যে সুপ্রিতি নতুন জীবন ফিরে পাবে বলে আশাবাদী জোলাইবাড়িবাসী।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য