স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ ডিসেম্বর : নয়া শ্রমকোডের প্রতিবাদে চারদিনের গন অবস্থান শুরু করেছে ত্রিপুরা পিপলস পার্টি এবং গণ মঞ্চ। রাজধানীর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। উপস্থিত রয়েছেন ত্রিপুরা পিপলস পার্টি নেতৃত্ব প্রবীন সিং। তিনি বলেন, দেশের বৈধ হতে নির্বাচিত সরকার জনগণের উপর ফ্যাসিবাদি কায়দায় একের পর এক আক্রমণ নামিয়ে আনছে। বেসরকারিকরণ, মূল্যবৃদ্ধি, কর্মহীনতা, শিক্ষায় গেরুয়াকরণ, কৃষি ও কৃষকের উপর লাগামহীন আক্রমণ, সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বুলডোজারে হাজার হাজার শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে গণউচ্ছেদের আবহে নরেন্দ্র মোদির সরকার এবার দেশের কোটি কোটি বৈধ নাগরিককে বেনাগরিক এবং রাষ্ট্রহীন করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এই লক্ষ্যে দেশব্যাপী চালু করা হয়েছে এস আই আর।
অর্থাৎ ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন। যার মাধ্যমে এতো বিপুল সংখ্যক নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র আগে কখনো হয়নি। ইতিমধ্যেই বিহার বিধানসভা ভোটে ৬৮ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে বিহার ভোটকে প্রহসনে পরিনত করা হয়েছে। যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তারা মূলত আদিবাসী জনজাতি, দলিত অতিদলিত, ওবিসি, মুসলিম ও বিরোধী রাজনীতির কর্মী সমর্থক। বিহারের পর ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মতো ১২টি রাজ্যে ইতিমধ্যেই অগণতান্ত্রিক ও জনবিরোধী এস আই আর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। যার আসল উদ্দেশ্যই হলো, বিজেপির ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতা দখলের রাস্তা সুগম করা। সদ্য সমাপ্ত বিহার বিধানসভা ভোটে দেশবাসী তা চাক্ষুষ করেছে। তবে এই যড়যন্ত্রের গভীরতর উদ্দেশ্য হলো, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থাপনাকে ভেঙ্গে উগ্রহিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের ছকে সাজানো, যেখানে দেশ জুড়ে তৈরি হবে অধিকারহীন এক দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক ও বিশাল সংখ্যায় শ্রম দাস।
যাদেরকে শ্রম দাস বানিয়ে বড় বড় কর্পোরেট ও সুবিধাভোগী জাত ও শ্রেণির চরম আধিপত্য কায়েম রাখা যাবে। উদ্ভুত এই পরিস্থিতির মধ্যেই নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার লগ্নি পুঁজির স্বার্থে দেশে শ্রমিক বিরোধী সর্বনাশা শ্রম কোড চালু করেছে। যার মাধ্যমে স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত অধিকারগুলোকে খর্ব করে শ্রমিকদেরকে শ্রমদাসে পরিনত করার ষড়যন্ত্র পাকা করে নিয়েছে। তাছাড়া গোটা দেশব্যাপী শ্রমিক শোষন বাড়িয়ে কর্পোরেট মুনাফাকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার কপটতাও নিহিত রয়েছে এই শ্রম কোডে। যেখানে শ্রমিকদের ট্রেডইউনিয়ন করা এবং ধর্মঘট করার অধিকারকেও রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। অর্থাৎ শ্রম কোড চালু করে শ্রমিকদের কথা বলার ন্যূনতম অধিকারকেও কেড়ে নেওয়া হলো। ফলে মজুরি নির্ধারন কিংবা কাজের সময় ও নির্ঘণ্ট নিয়ে দরকষাকষি করার ন্যূনতম অধিকারও শ্রমিকদের থাকবে না। একই লক্ষ্যে মোদী সরকার কৃষক সহ সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিরোধী কৃষি বীজ ও বিদ্যুৎ বিল এনেছে। ত্রিপুরা পিপলস পার্টি ও গণ মঞ্চ সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদি দেশী-বিদেশী কর্পোরেট কম্পানীগুলির তল্পিবাহক কেন্দ্র-রাজ্যের বিজেপি সরকারের জনবিরোধী শ্রমিক বিরোধী এস আই আর, শ্রম কোড বাতিল সহ বিভিন্ন দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে আগামী ২২শে ডিসেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে গণঅবস্থান পালন করবে। এই গণ অবস্থানে সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান ত্রিপুরা পিপলস পার্টির নেতৃত্ব প্রবীন সিং।

