স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১১ ডিসেম্বর : ওড়িষ্যা সহ বিভিন্ন রাজ্যে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাঙালীদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আমরা বাঙালি রাজ্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত হয়। উপস্থিত ছিলেন আমরা বাঙালি দলের রাজ্য সম্পাদক গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল। তিনি বলেন, ওড়িষ্যা সহ বিভিন্ন রাজ্যে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাঙালীদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে। ভারতের ভূমিপুত্র, স্বাধীনতার রূপকার এবং বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাঙালীরা আক্রমণ, নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পারছে না। বর্তমানে আক্রান্ত বাংলাভাষা, নোবেলজয়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা গান’।
আক্রান্ত স্বাধীনতার বীজমন্ত্র সাহিত্য সম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দেমাতরম’ গান বা ধ্বনি, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ‘আজাদ হিন্দ’ শ্লোগান। বাঞ্জলী বিদ্বেষী চক্রান্তকারীদের আক্রমনের শিকার সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ও। এই আবহেই গত ৭ই ডিসেম্বর ওড়িষ্যার মালকানগিরিতে বাঙালীদের গ্রামে ঘটে গেল এক পরিকল্পিত আক্রমন। স্থানীয় এক সম্প্রদায়ের মানুষ অতর্কিত সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে সেখানকার শতাধিক বাঙালীর বাড়ীঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস করে দেয়। লুটতরাজও হয়। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো-৭ ও ৮ই ডিসেম্বর পুলিশের সামনে আক্রমনকারীরা আবার বাঙালীদের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুঠতরাজ চালালেও পুলিশবাবুরা ছিল নিশ্চুপ।
আক্রান্ত বাঙালীদের অভিযোগ ওড়িষ্যায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই নাকি বাঙালীদের উপর অকারণে আক্রমণ নির্যাতন হয়ে চলেছে খুব বেশি।অন্যদিকে শুধু বিজেপি-ই নয়। ৮ই ডিসেম্বর ওড়িষ্যার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে চিত্রাকোন্ডার কংগ্রেসের বিধায়ক ‘মংগুখিলো’ কাএলীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৬৪ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বাঙালীরা উল্লেখিত গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করলেও একসময় বর্তমান ওড়িষ্যার কেওড়গঞ্জ, ময়ূরগঞ্জ সহ পশ্চিমবঙ্গের লাগোয়া বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল বৃহদ বাংলারই অঞ্চল। দাবি জানানো হচ্ছে, সম্প্রতি ওড়িষ্যায় মালকানগিরিতে বাঙালীদের উপর হিংসাত্মক ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা, উল্লেখিত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সর্বস্বান্ত বাঙালীদের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা দিয়ে স্ব-স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার।

