স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১১ ডিসেম্বর : আগরতলা স্মার্ট সিটি কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ভাবে সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধি হয়েছে কলেজ টিলা লেইকের। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারালো কলেজ টিলা লেইক। যার কারনে বর্তমানে কলেজ টিলা লেইকের জলে ভেসে উঠছে মৃত মাছ। দুই একটি পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটলেও নামছে না লেইকের জলে। পরিবেশ বিদের অভিজ্ঞতা কিংবা মতামতকে উপেক্ষা করে নিজের মর্জি মাফিক কাজ হয়েছে। যার মাশুল গুনতে হচ্ছে বর্তমানে নিগম বাসীকে।
একটা সময় এই কলেজ টিলা লেইকে শীত পড়ার সাথে সাথে পরিযায়ী পাখিরা ভিড় জমাতো। আর এই পরিযায়ী পাখিদের কিচির মিচির কোলাহল দেখতে ভিড় জমাতো প্রকৃতি প্রেমী মানুষ। সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ভাবে কলেজ টিলা লেইকের সৌন্দর্যায়ন করার ফলে নষ্ট হয়ে গেছে পরিযায়ী পাখির বাসস্থান। কলেজ টিলা লেইকের সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধি করতে গিয়ে লেইকের মাঝে জলের উপর ভাসমান একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ইট আর সিমেন্ট দিয়ে লেইকের চার পাশের পাড় বাধা হয়েছে। যা নিয়ে প্রথম থেকে স্থানীয় লোকজন সহ প্রকৃতি প্রেমিরা আপত্তি জানিয়েছিল। স্থানীয়দের বক্তব্য ছিল ইট আর সিমেন্ট দিয়ে লেইকের পাড় বাধা হলে নষ্ট হতে পারে বাস্তুতন্ত্র। কিন্তু স্থানীয়দের বক্তব্যে কর্ণপাত না করে প্রশাসনিক আধিকারিক নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। লেইকের পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে পার্ক। লেইকের মাঝে যখন ভাসমান রাস্তা নির্মাণ করা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল স্থানীয়রা। স্থানীয়দের বক্তব্য ছিল অবৈজ্ঞানিক ভাবে লেইকের মাঝে ভাসমান রাস্তা নির্মাণ করা হলে লেইকের জল ঢেউ খেলতে পারবে না। এতে করে লেইকের জল দূষিত হয়ে যাবে।
এমনকি জলজ প্রাণীর চলাচলের ক্ষেত্রেও এইটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু পুর নিগমের তৎকালীন কমিশনার নিজের সিদ্ধান্তে সবকিছু করে যান। কলেজ টিলা লেইকের সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধি করা নিয়ে মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগও জমা পরে। অভিযোগ জমা পড়ার পর তড়িঘড়ি কাজ শেষ করে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলা কলেজ টিলা লেইকের উদ্বোধন করা হয় ঘটা করে। কিন্তু স্থানীয়রা আগে থেকে যা অনুমান করেছিলেন তাই হল। বিগত বছরের ন্যায় এই বছর কলেজ টিলা লেইকে আগমন ঘটে নি পরিযায়ী পাখির। দুই একটা পরিযায়ী পাখি আসলেও নামছে না লেইকের জলে। লেইকের পাড়ে কিংবা গাছে ডালে বসে তারা সময় কাটাচ্ছে। লেইকের মাঝে অবৈজ্ঞানিক ভাবে রাস্তা নির্মাণ করার ফলে লেইকের জল আর আগের মতো ঢেউ খেলতে পারছে না। যার কারনে সেই ভাবে তৈরি হচ্ছে না অক্সিজেন। তার উপর লেইকের আশপাশের গাছের পাতা ও জঙ্গল লেইকের জলে পড়ে পচে গিয়ে তৈরি হচ্ছে মিথেন গ্যাস। আর এই মিথেন গ্যাসের প্রভাবের কারনে মারা যাচ্ছে লেইকের মাছ। মৃত্যুর পর লেইকের জলে ভেসে উঠছে সেই মাছ। সংবাদ প্রতিনিধিদের ক্যামেরায় সেই চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্তমানে কলেজ টিলা লেইকের জল সম্পূর্ণ ভাবে দুষিত হয়ে গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের বক্তব্য বাস্তুতন্ত্র ও প্রকৃতির ভারসাম্যের কথা মাথায় রেখে কলেজ টিলা লেইকের সৌন্দর্যায়ন করলে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। স্থানীয়দের অনেকের বক্তব্য কলেজ টিলা লেইকের বর্তমান অবস্থায় দায়ভার কে নেবে।

