Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্য"বাবা এভাবে যাইতি পারস না তুই- আমি তোকে ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি- তুই...

“বাবা এভাবে যাইতি পারস না তুই- আমি তোকে ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি- তুই আমার কাছে থাক- তুই যাইস না” – সপ্তর্ষীর নিথর দেহ ধরে মায়ের আর্তনাদ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৮ ডিসেম্বর : “বাবা তুই আমার খুব ভালো সোনা। বাবা তুই দেখতাছস না শুয়ে রইছত। এভাবে যাইতি পারস না তুই। আমি তোকে ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি। তুই আমার কাছে থাক। তুই যাইস না।” এই কথাগুলি ছেলের নিথর দেহ ধরে বলছিলেন সপ্তর্ষীর অচৈতন্য মা। ছেলেকে চিরতরে বিদায় জানানোর মতো শক্তি ছিল না গর্ভে ধারণ করা মায়ের। ছেলে এমবিবিএস কোর্স করে বাড়ি ফিরে জম্মু-কাশ্মীর ঘুরে এসেছিল।

 মা-বাবা দুজনের মাঝে বসে অনেক ছবিও তুলেছিল। দুর্ঘটনার দিন মাকে মেসেজ করে গিয়েছিল মা- টাটা গুডবাই! কিন্তু এই জনমে মায়ের সাথে শেষ কথা সপ্তর্ষীর সেটা মা- ছেলে কেউ জানতেন না। সেদিন রাতে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মৃত্যু হল সপ্তর্ষীর। সোমবার ৬ দিনের মাথায় ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজ্যে এসে পৌছাল সপ্তর্ষীর নিথর দেহ। আগরতলার রামনগর এক নং রোড এলাকার বাসিন্দা সপ্তর্ষি দাস। মা-বাবার একমাত্র সন্তান সপ্তর্ষী উত্তর প্রদেশের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। ডাক্তারি পড়ুয়া সপ্তর্ষী দাস সহ মোট ৪ জন এম.বি.বি.এস পড়ুয়ার  মৃত্যু হয় উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলায় দিল্লি-লখনউ জাতীয় সড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে সজোরে ধাক্কা মারে সপ্তর্ষিদের গাড়ি। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় চার বন্ধুর। দেশ জুড়ে বিপর্যস্ত বিমান পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে সপ্তর্ষির মৃতদেহ রাজ্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে দেখা দেয় বড় সমস্যা। বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে সপ্তর্ষির মৃতদেহ রাজ্যে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। রবিবার গোহাটি এসে পৌছায় ফ্রিজার এম্বুলেন্স। সোমবার দুপুরে সপ্তর্ষির নিথর দেহ নিয়ে ফ্রিজার এম্বুলেন্স পৌছায় রামনগরস্থিত তার নিজ বাড়িতে।

সপ্তর্ষির মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙ্গে পরে পরিবারের লোকজন। সপ্তর্ষীকে অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, মেয়র দীপক মজুমদার, কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা সহ অন্যান্যরা। মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিল সপ্তর্ষী। স্বাভাবিক ভাবেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর ঘটনার চেয়ে বড় দুঃখ জনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। বিমান পরিষেবার বেহাল অবস্থার কারনে সপ্তর্ষির মৃতদেহ রাজ্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাড়ায়। অবশেষে ৬ দিনের মাথায় সপ্তর্ষির মৃতদেহ রাজ্যে এসে পৌছাল। মুখ্যমন্ত্রী সপ্তর্ষির আত্মার সদগতি কামনা করেন। পাশাপাশি পরিবার পরিজনদের সমবেদনা জানান। এদিন অগণিত মানুষ সপ্তর্ষীকে শেষবারের জন্য দেখতে এসেছিলেন। এদিকে সপ্তর্ষীর মায়ের শেষ আবদার ছিল ছেলে প্রত্যেক ঘর ঘুরে যাবে। পরিবার পরিজন সেই কথা রাখলো। বাড়ির প্রতিটা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় সপ্তর্ষীর দেহ। তারপর শ্মশানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হলো সপ্তর্ষীকে। মা এগিয়ে দিল বাড়ির গেট পর্যন্ত। চোখের জলে শেষ বিদায় জানায় পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে এলাকাবাসী।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য