Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যপ্রশাসনিক নিয়মের গুরুত্ব না দেওয়ায় বঞ্চিত প্রতিবন্ধী দুই ভাই, খোলা আকাশের নিচে...

প্রশাসনিক নিয়মের গুরুত্ব না দেওয়ায় বঞ্চিত প্রতিবন্ধী দুই ভাই, খোলা আকাশের নিচে চলে গোটা পরিবারের প্রাকৃতিক কাজ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩ ডিসেম্বর :দুই ভাই ১০০ ভাগ প্রতিবন্ধী হয়েও মিলছে না সরকারি সহযোগিতা। মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুঃখের কথা তুলে ধরলেন প্রতিবন্ধী দিবসের দিন অসহায় পরিবার। অথচ ৩ ডিসেম্বর বুধবার রাজ্যে ঘটা করে পালন করা হয়েছে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। এদিকে পানিসাগর নগর পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক জীর্ণ কুঁড়েঘরে লুকিয়ে আছে তাদের নির্মম করুন কাহিনির বাস্তবতা। এক বৃদ্ধা মা, এক কন্যা এবং শতভাগ প্রতিবন্ধী দুই ভাই কার্ত্তিক সূত্রধর ও নিবাস সূত্রধরের এক পরিবার। জন্মলগ্ন থেকেই ১০০ শতাংশ শারীরিক দুর্বল হওয়ায় তারা নিজ পায়ে হাঁটতে অক্ষম। তারা তিন ভাই ছিলো। সেও শতভাগ প্রতিবন্ধী ছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও সহায়তার আশায় দিন গুনতে গুনতে ২০২২ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে মৃত্যু হয়।

এদিকে আজও বেঁচে থাকা দুই ভাই প্রতিদিন মৃত্যুর প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। সরকারের সহানুভূতিতে পরিবারটিকে একটি সরকারি খাস জমিতে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র। কিন্তু বাস্তবে তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নেই কোনো স্থায়ী ঘর, নেই শৌচাগার, নেই স্নানের ব্যবস্থা। পরিবারটি লড়াই করছে প্রকৃতির সঙ্গেও। বর্ষায় বিছানা ভিজে যায়। কনকনে ঠান্ডায় হাড় পর্যন্ত কাঁপে, গ্রীষ্মে রোদে শরীর জ্বলতে থাকে। শৌচাগার না থাকায় প্রতিদিন লজ্জা ভুলে জঙ্গলে গিয়ে প্রাকৃতিক কাজ করতে হয়। আজও তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, নেই ন্যূনতম মানবিক সুবিধা। বছরের পর বছর ধরে পরিবারটি জেলা শাসক, মহকুমা শাসক, রেভিনিউ ডিপার্টমেন্ট, তহসিল অফিস ও নগর পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়েছে। সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে-“ব্যবস্থা হবে, আজ নয় কাল।”

বিগত বছরে দুই ভাই  নিজেরাই জেলা শাসকের সঙ্গে দেখা করে লিখিত ও মৌখিকভাবে তাদের শারীরিক ও অর্থনৈতিক অসহায়তার কথা জানান। জেলা শাসক তাদের আবেদন অনুমোদন করেছেন বলেও জানানো হয়। বলা হয়েছিল, শুধু পানিসাগরের বিধায়কের স্বাক্ষর বাকি আছে। স্বাক্ষর হলেই জমি বরাদ্দ করে দেওয়া হবে। তারপর তৎক্ষণাৎ দুই ভাইকে সরকারি ঘর, শৌচালয় বরাদ্দ করে দেওয়া হবে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই পানিসাগর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ভিন্ন সুর তোলে। জমি দেওয়া যাবে না। এভাবে একের পর এক অজুহাত দেখিয়ে বরাদ্দ আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ অসহায় পরিবারের। কার্ত্তিকের আক্ষেপ! সে শতভাগ প্রতিবন্ধী হয়েও আজ পর্যন্ত একটি শৌচাগার পর্যন্ত পায়নি। নেই স্নানের জায়গা। টানা তিন বছর ধরে স্নান করতে পারেনি। দেশের নাগরিক হিসেবে কি অন্তত একটি টয়লেট ও স্নানের জায়গার অধিকারও নেই? এখন সময় এসেছে ত্রিপুরা সরকারের, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের। শুধুমাত্র মানবিক দিক বিবেচনা করেই নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবেও এই দুই শতভাগ প্রতিবন্ধী ভাইয়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে দাবি সচেতন মহলের। এদিকে নগর পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে স্থানীয় নগর পঞ্চায়েতের সদস্য ধনঞ্জয় নাথের বক্তব্য, তাদের নগদ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছিল।

তাদের বলা হয়েছিল নগর পঞ্চায়েতের কাছে জমির জন্য আবেদন করতে। কিন্তু তারা আবেদন নগর পঞ্চায়েতের কাছে না করে সরাসরি জেলা শাসকের কাছে গিয়ে করেছেন। তারপর জেলাশাসক মহকুমা শাসককে বিষয়টি দেখার জন্য নির্দেশ দেন। মহকুমা শাসক পুনরায় নগর পঞ্চায়েতকে জানান। তারপর নগর পঞ্চায়েতের মধ্যে দু তিনটি খাস জমি নিতে করে তাদের জন্য ঘর শৌচালয়ের বন্দোবস্ত করার জন্য উদ্যোগ নিয়ে। কিন্তু অসহায় পরিবারটি সেই জমিগুলির মধ্যে যেতে রাজি নয়। তারা চাইছে বর্তমানে যে জমিতে তারা বসবাস করেন সেই জমিতেই তাদের ঘর এবং শৌচালয় নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য।

নয়তো রাস্তার পাশে তাদের অন্য কোন জায়গায় ঘর এবং শৌচালায় নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য। কারণ রাস্তার পাশে দোকানের উপর ভরসা করে তাদের সংসার চলে। কিন্তু অসহায় পরিবারের দাবি অনুযায়ী রাস্তার পাশে খাস জমিতে দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। কারণ তারা যে জায়গায় বসবাস করছে সেটা পূর্ত দপ্তরের অধীনে। আগামী দিন এই জায়গা তাদের ছাড়তেও হবে। কারণ রাস্তা বড় করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অসহায় পরিবারটি এবং প্রশাসন এক মতে আসতে না পারায় সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। তারপরও তারা বর্তমানে যে জায়গায় বসবাস করছে সে জায়গাতে পানীয় জলের বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছে। তারা যদি প্রশাসনের কথা অনুযায়ী অন্যথায় যেতে রাজি হয় তাহলে তাদের ঘর এবং শৌচালয়ের বন্দোবস্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য