স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২১ নভেম্বর :সরকার পাহাড়ে ব্যর্থ শরিক জোট বজায় রাখতে। গত কয়েকদিনের ঘটনা সেটাই বারবার প্রমাণ করেছে। পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিজেপি-র একটি প্রতিনিধি দল এবং বনমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিপরা মথার একটি প্রতিনিধি দল এডিসি -র সদর দপ্তর খুমুলুঙে। উভয় দলের পক্ষ থেকে নাম না করে একে অপরের দিকেই দোষ চাপানোর চেষ্টা করলেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার দুপুরে খুমুলুঙে গিয়ে প্রথমে দলীয় কার্যালয়ের ধ্বংসস্তূপ দেখলেন। তারপর জনজাতি মোর্চার নেতা বিপিন দেববর্মা সহ দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কর্মী মিতা দেববর্মার বাড়িতে যান।
ঘটনার সম্পর্কে অবগত হন দলীয় কর্মীর কাছ থেকে। তারপর গোটা বিষয়টি ময়নাতদন্ত করে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হলেন তিনি। তিনি শরিক দলের নাম না করে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, মথার মধ্যে কমিউনিস্টের মানসিকতা রয়ে গেছে। কমিউনিস্ট সরকারের শাসনকাল শেষ হলেও তাদের চরিত্র রয়ে গেছে রাজ্যের অনেক দলের মধ্যে। যা এই ঘটনায় স্পষ্ট। তবে বিজেপি এই তান্ডব লীলা কোনভাবেই বরদাস্ত করে না। যারা এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত করছে তাদের কমিউনিস্ট মানসিকতা থেকে সময় থাকতে বের হয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রাজনীতি সবার অধিকার। কিন্তু জোর করে কেউ যদি ভাবে শুধু একাই রাজনীতি করবে তাহলে সেটা ভুল হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যারা এগুলি করছে তাদের নেতৃত্ব যখন উনার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেন, তখন তারা এক কথা বলে, অথচ তাদের কাজকর্ম পুরোপুরি ব্যতিক্রম। কথা সঙ্গে কাজের কোন মিল নেই। দলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তাদের উদ্দেশ্যে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অপরদিকে, বিকালের নাগাদ তিপরা মথার একটি প্রতিনিধি দল খুমুলুঙে যান। মথার ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কার্যালয়টি ঘুরে দেখেন তারা। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, প্রাক্তন মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। পরবর্তী সময়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, তিপরা মথা আক্রান্ত। পুলিশের সামনে মথার কর্মী সমর্থকরা আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ পুলিশ নিরব ছিল। যারা আক্রমণ করেছে তাদের পরিচয় তারা সমাজদ্রোহী। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে তিন মাস সময় প্রয়োজন। তিপরা মথার হাতে স্বরাষ্ট্র দপ্তর দেওয়ার দাবি করেন তিনি। তিন মাসের মধ্যে আইনের শাসন কিভাবে করতে হয় সেটা দেখাবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, তাহলে ঝামেলা কি নিয়ে সেটা জনসাধারণের কাছে আরো বেশি জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। দীর্ঘ এক বছর ধরেই মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা নিয়ে নারাজ মথা। ভিলেজ কমিটির নির্বাচন এবং এডিসি নির্বাচনের আগে প্রধান শাসকের জন্য অন্যতম দাবী হতে পারে শরিকের। এদিকে কিছুদিন আগে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে তিপরা মথার মেগা যোগদান শিবিরে তিপরা মথার সুপ্রিমো সরাসরি বলেছেন, আগামী দিন কোন নির্বাচনে যাতে জাতীয় কোন রাজনৈতিক দল এডিসিতে প্রবেশ করতে না পারে। আর মুখ্যমন্ত্রী খুমুলুঙ থেকে ফিরে সরাসরি বললেন জোর করে রাজনীতি করা যায় না।

