Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যখুমুলুঙ, টাকারজলা, জম্পুইজলায় বিজেপি ও মথার সংঘর্ষে আহত উভয় দলের বহু, ভাঙচুর...

খুমুলুঙ, টাকারজলা, জম্পুইজলায় বিজেপি ও মথার সংঘর্ষে আহত উভয় দলের বহু, ভাঙচুর দলীয় কার্যালয় ও গাড়ি, পুলিশকে থানায় তারাবন্দি করল মথা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ নভেম্বর : কোন এক সময় রাজ্যের মানুষ কংগ্রেস এবং সিপিআইএমের দোস্তি এবং কুস্তি দেখতো বলে হাসির খোরাক বানাত রাজনৈতিক মহলকে। কিন্তু এবার হাসির খোরাক হচ্ছে বিজেপি এবং তিপরা মথা। কাগজে-কলমে একসাথে সরকার পরিচালনা করছে দুই দল। অথচ প্রত্যন্ত এলাকায় একে অপরের ছায়া সঙ্গী হওয়াতে দূরের কথা, ছায়া পর্যন্ত দেখতে চাইছে না। এই দুর্বলতা আবারো প্রকাশ্যে আসলো মঙ্গলবার। খুমুলুঙে বিজেপি-র দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ উঠেছে তিপরা মথার বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার রাত থেকে একের পর এক ঘটনার জেরে খুমুলুঙ ও টাকারজলা বিধানসভা এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তিপ্রা মথার অভিযোগ মঙ্গলবার রাতে খুমুলুঙে কিছু দুষ্কৃতি বন্দুক নিয়ে ঘুরা ঘুরি করেছে। এবং তিপ্রা মথার কর্মীদের হুমকি দিয়েছে। দুষ্কৃতিদের আক্রমণে আহত হয়েছে চার তিপ্রা মথা কর্মী। এই অভিযোগ উত্থাপন করে তিপ্রা মথার কর্মী সমর্থকরা বুধবার মিছিল করে রাধাপুর থানা ঘেরাও করে। নেতৃত্বে ছিলেন তিপ্রা মথার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কলই। তিপ্রা মথার কর্মীরা একটা সময় রাধাপুর থানার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তিপ্রা মথা দলের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয় মামলা। এইদিন অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার জন্য রাধাপুর থানার পুলিসকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়। রাধাপুর থানার পুলিশের সাথে দীর্ঘ সময় আলোচনার পর বিধায়ক বিশ্বজিৎ কলই জানান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিসকে ৭২ ঘণ্টা সময় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পুলিশও এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে। তাই আপাতত তাদের তাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।

 তবে পুলিশ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করলে তিপ্রা মথার কর্মী সমর্থকরা অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেবে। তিপ্রা মথার কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনার পর তিপ্রা মথার কর্মীরা পাল্টা রাতেই খুমুলুঙ বিজেপি অফিসে ভাংচুর করে। এমনকি আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বিজেপি অফিসে। এই ঘটনার রেশ ধরে বুধবার টাকারজলার জম্পুইজলা বাজারে বিজেপির পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। ভাংচুর করা হয় টাকারজলা মণ্ডল অফিসের আসবাবপত্র। ভাংচুর করা হয় মণ্ডল সভাপতির গাড়ি। ভাংচুর করা হয় বিজেপির কর্মী সমর্থকের বাড়ি। অঞ্জলি জমাতিয়া নামে এক মহিলা জানান তিপ্রা মথা দলের কর্মীরা প্রথমে বিজেপি টাকারজলা মণ্ডল অফিসে ভাংচুর চালায়। তারপর তারা ওনার বাড়িতে হামলা চালায়। ওনার স্বামীর খোঁজ করে। তারপর ওনার ঘরে থাকা একটি বাইক ভেঙ্গে দিয়ে যায় তিপ্রা মথা দলের কর্মী সমর্থকরা। বুধবার সন্ধ্যায় প্রদেশ বিজেপির সাধারন সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী কুমার ত্রিপুরা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত বিজেপি পার্টি অফিস গুলি পরিদর্শনে যান। তারা প্রথমে খুমুলুঙ ও পরে টাকারজলা মণ্ডলের জম্পুইজলা বাজারে অবস্থিত পার্টি অফিস সরজমিনে ঘুরে দেখেন। প্রদেশ বিজেপির সাধারন সম্পাদক বিপিন দেববর্মা জানান সব জায়গায় বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। টাকারজলা বিধানসভা এলাকায় একটা সময় বিজেপির সংগঠন তেমন শক্তিশালী ছিল না। বর্তমানে টাকারজলা বিধানসভা এলাকায় বিজেপির শক্তি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তা দেখে তিপ্রা মথা ভয় পেয়েছে। তাদের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে।

এইটা তারা মেনে নিতে পারছে না। তাই তিপ্রা মথা দলের কর্মী সমর্থকরা এই ধরনের ঘটনা সংগঠিত করে যাচ্ছে। তিপ্রা মথার সাথে বিজেপির জোট থাকবে না থাকবে না তা বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব ঠিক করবে। তবে আগামিদিনে এডিসি-র ক্ষমতা দখল করবে বিজেপি। কেউই বিজেপিকে রুখতে পারবে না।ক্ষতিগ্রস্ত বিজেপি পার্টি অফিস পরিদর্শনের পর বিজেপি নেতৃত্ব সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। দাবি জানান বিজেপি পার্টি অফিসে ভাংচুরের ঘটনার সাথে যারা যুক্ত তাদের যেন অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হয়। এইদিকে একের পর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুমুলুঙ ও টাকারজলা বিধানসভা এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় যেন নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তার জন্য মোতায়েন রয়েছে বিশাল আরক্ষা বাহিনী। বর্তমানে উভয় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এদিকে বুধবার বিজেপি ও তিপরা মথার মধ্যে সংঘর্ষ হয় জম্পুইজলায়। মন্ডল সভাপতি বাড়ি এবং বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতিকারীরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য