আগরতলা, ১০ নভেম্বর: জনজাতি অংশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। জনজাতি ছেলেমেয়েদের শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গ দর্শনে এই সরকার জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে।
জনজাতীয় গৌরব দিবস উপলক্ষে আজ আগরতলায় মহারাণী তুলসীবতি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত জনজাতি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্বর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিটি অ্যাসপিরেশন্যাল ভিলেজকে মডেল ভিলেজ হিসেবে তৈরি করার উপর জোর দিয়েছেন। সেই দিশায় কাজ করছে রাজ্যের বর্তমান সরকারও। প্রধানমন্ত্রী বনবন্ধু কল্যাণ যোজনায় জনজাতি অংশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কাজ রূপায়ণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জনজাতিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে নজর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি বিকাশ যোজনায় ২৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রায় ২৩ কোটি টাকার অধিক ব্যয় করা হয়েছে। প্রায় ৯,৩২৬ জন বেনিফিশিয়ারিকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যেতে ইচ্ছুক জনজাতি ছেলেমেয়েদের এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করছে সরকার। জনজাতি হোস্টেলগুলিতে ১৭০ জন হোস্টেল ওয়ার্ডেন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের প্রায় ৫০টি হোস্টেলে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য ১৯ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। জুম চাষীদেরকেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করার ব্যবস্থা হয়েছে। এছাড়া এক্সটার্নাল এইডেড ফান্ডের মাধ্যমে জনজাতিদের বিভিন্নভাবে কল্যাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আলোচনায় বলেন, আগে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে হাতেগোনা কয়েকজন টিসিএস, আইএএস, টিপিএস, টিএফএস জনজাতি অফিসার ছিলেন। সেই জায়গায় এখন সব জায়গায় জনজাতিগণ বিশাল উন্নতি করেছেন। ডাঃ সাহা বলেন, রাজ্যে ড্রাগস মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এনিয়ে বিধানসভায় বিধায়কদের নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যাতে রাজ্যের সব জায়গায় সচেতনতা আরো বৃদ্ধি করা যায়। ড্রাগসের বিরুদ্ধে মোকাবিলা সহ এইচআইভি/ এইডস নিয়েও আরো সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। এবিষয়ে মানুষকে আরো সচেতন করে তুলতে হবে। এজন্য অফিসারদেরও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। ড্রাগসের কুফল ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনজাতিদের সার্বিক কল্যাণে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আমাদের রাজ্য সরকারও সেই দিশায় তাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, এবার দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যে আরো জাতীয় সড়কের জন্য দাবি জানাই। আমি বলেছি কমলপুর, আমবাসা, গন্ডাতুইসা হয়ে শান্তিরবাজারে জাতীয় সড়ক হলে সময় অনেক কমে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, পশ্চিম জেলার জেলাশাসক বিশাল কুমার, মহারাণী তুলসীবতি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের বিপিন দেববর্মা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। এর পাশাপাশি জনজাতি অংশের সমাজপতিগণও এই কার্যক্রমে যোগদান করেন।

