স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ নভেম্বর :সুশাসন জামানায় কাঁধে করে প্রসব যন্ত্রণায় কাতর মহিলাকে হাসপাতাল নিয়ে আসার সময় রাস্তায় শিশু সন্তানের জন্ম হয়। এই ঘটনা বাগমা বিধানসভা কেন্দ্রের কিল্লা আর ডি ব্লকের লায়লাক ভিলেজে। অভিযোগ, রাস্তার চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। রাস্তাটি ইটের সোলিং।
দুর্গম এলাকা বললেও ভুল হবে, দুর্গম এলাকা বানিয়ে রেখেছে পূর্বতন সরকার এবং বর্তমান সরকার সহ বর্তমান এডিসি প্রশাসন। শুক্রবার সকালে প্রসব যন্ত্রণায় যখন গর্ভবতী মহিলা হিমশিম খাচ্ছিল তখন খবর দেওয়া হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু বিকাশ ত্রিপুরার এমন অবস্থা যে বহু চেষ্টা করে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে পারেনি এলাকায়। এলাকার সূত্রের খবর, দুপুরের নাগাদ মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর আশেপাশের কিছু যুবক মহিলাকে কাঁধে করে নিয়ে রওনা হয়েছিলেন অ্যাম্বুলেন্সের উদ্দেশ্যে। তারা ভেবেছিলেন পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার রাস্তা এগোতে পারলে অ্যাম্বুলেন্স মিলবে। কিন্তু মাঝপথেই অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে সন্তান জন্ম দিল গর্ভবতী মহিলা। পরবর্তী সময় মহিলাকে আবার কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাম্বুলেন্সে। তারপর কিল্লা হাসপাতাল পাঠানো হয়। এমন দৃশ্য সচরাচরে রাজ্যে দেখা যায় না বলেই চলে।
যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলো কংগ্রেস। বাগমা বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস নেতা টিটন পাল জানান, আগের সরকারের আমলেও এলাকার উন্নয়ন হয়নি। এখনো এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই গ্রাম। এলাকার উন্নয়ন করার জন্য রাজ্য সরকার এবং এডিসি সরকারের কাছে দাবী করেন তিনি। উল্লেখ্য, জাতীয় স্তরে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বিভিন্ন সময় অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে এমন ঘটনা শোনা যায়। কিন্তু বিকাশ ত্রিপুরা সেই রাজ্যগুলির বাইরে নয় সেটাই প্রমাণ করলো এদিন। প্রতিদিন রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে বিক্ষোভ আন্দোলন সংঘটিত হচ্ছে। অথচ টিপল ইঞ্জিনের জন দরদের সাফল্য মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। উন্নয়নের চাকা উল্টোদিকেই ঘুরছে। মানুষকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্লোগান তুলে কিভাবে টুপি পড়ানো যায় সেটা ভালো করে জানে রাজ্যের মুখোশধারী জনজাতি দরদী নেতারা। কখনো দিল্লিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কখনো মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি, আবার কখনো মঞ্চে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলেছেন তথাকথিত সুবিধাবাদী মুখোশধারী নেতা। অথচ ২০২১ সালের পর রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় কি উন্নয়ন তিনি করেছেন সেটা নিজেই বলতে পারবেন না। থানসা স্লোগান তুলে বিভিন্ন সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। আর পিঠে সাবাসি দিয়ে চলেছে প্রধান শাসক দল।

