Saturday, December 13, 2025
বাড়িরাজ্যদাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত চলছে : বিজেপি

দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত চলছে : বিজেপি

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ অক্টোবর : অবিভক্ত ত্রিপুরা রাজ্যে কুমিল্লা যেমন ছিল, তেমনি চট্টগ্রামও ছিল। তার জন্য তিপ্রা মথা সুপ্রিমো গ্রেটার তিপ্রা ল্যান্ডের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি আচমকা বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশী মুখ্যমন্ত্রী বলছেন। তাহলে কি ত্রিপুরা রাজ্যে পুনঃরায় দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত চলছে। বৃহস্পতিবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই প্রশ্ন উত্থাপন করেন প্রদেশ বিজেপির সহসভাপতি বিমল চাকমা। পাশাপাশি তিনি বলেন বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যে রাজ পরিবারকে যদি কেউ সম্মান দিয়ে থাকে, তা দিয়েছে বিজেপি। আগরতলা বিমান বন্দরের নাম এমবিবি বিমান বন্দর করা হয়েছে। মহারাজ বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তারপরও প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মণ বলছেন জাতীয় দলে জনজাতিদের কোন মূল্যায়ন করা হয় না। বিমল চাকমা এইদিন স্পষ্ট ভাষায় জানান ত্রিপুরা রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর জনজাতিদের সমাজপতিদের সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রেও জনজাতিদের সম্মান দিয়েছে বিজেপি। ত্রিপুরা রাজ্যের উন্নয়ন করতে হলে জাতি জনজাতি সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। তবেই রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব হবে। জাতি জনজাতিদের মধ্যে বিভাজন করে রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ভারতীয় জনতা পার্টির জনজাতি মোর্চার শীর্ষ নেতা বিপিন দেববর্মা বলেন, সম্প্রতি রাজ্যভিত্তিক হজাগিরি উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে রেখেছে একাংশ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্য। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রিয়াং সম্প্রদায়কে বাংলাদেশী বলেননি। মুখ্যমন্ত্রী সেই সময়ে শুধুমাত্র ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

 কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে ইতিহাস পুরোটা তুলে ধরতে পারেননি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিপড়া মথার কিছু নেতৃত্ব আগামী দিনে এডিসি নির্বাচনে বাজার গরম করার জন্য এভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করে সাধারণ মানুষের কাছে পেশ করে চলেছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ রাজমালা গ্রন্থের একটি অংশ তুলে ধরা হয় এই সাংবাদিক সম্মেলনে। রাজমালা গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম একটা সময়ে পার্বত্য ত্রিপুরার অংশ ছিল। তখন সেখানে রাজন্য শাসন ছিল। সেই ইতিহাসটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেভাবে প্রচারের মাধ্যমে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে তা তিপড়া মাথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেব বর্মনের মস্তিষ্ক প্রসূত বলেও অভিমত ব্যক্ত করা হয় সাংবাদিক সম্মেলনে। সাংবাদিক সম্মেলন প্রদেশ বিজেপির সহসভাপতি বিমল চাকমা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপির সাধারন সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, এমডিসি সনজিৎ রিয়াং এবং প্রদেশ বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ সুনিত সরকার।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য