স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৫
জুলাই : শনিবার একাধিক বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায়
দাঁড় করালেন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সি.পি.আই.এম। শনিবার সিপিআইএম রাজ্য কার্যালয়ে
সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা
গত আট বছরে এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যে রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ
ধ্যানকরকে পর্যন্ত আত্ম বলিদান দিতে হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা কি অবস্থায় আছে সেটা
দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে গেছে গত কুড়ি জুলাই এই ঘটনায়।
এবং এই ঘটনার
পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল হাইকোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে যেন ডিজির
মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে পুলিশ সুপার পর্যায়ে তদন্ত দিয়েছে
সরকার। কিন্তু গত আট বছরে কোন আইপিএস স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি ত্রিপুরা রাজ্যে।
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপার অনেক বেশি জুনিয়র। তার দ্বারা এর সুষ্ঠু তদন্ত হবে
কিনা সন্দেহ রয়েছে। কারণ তাঁর উচ্চপদস্থ যারা রয়েছেন তাদের অনেকেই দুর্নীতিগ্রস্ত।
বিরোধী দলনেতা আরো সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ডিজির মৃত্যুর ঘটনায় ফরেন্সিক টিমের আধিকারিকের
সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানের মিল নেই। ফরেন্সিক টিম বলছে তারা বাথরুমের মধ্যে ডিজিকে
শায়িত অবস্থায় পেয়েছেন। আর মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তিনি নাকি সদর কার্যালয়ে গিয়ে
ঝুলন্ত অবস্থায় পেয়েছেন ডিজির মৃতদেহ। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন ফরেনসিক টিম না আসা
পর্যন্ত মৃতদেহ নামানো যায় না।
পরে দুই ধরনের
বয়ান থেকে সন্দেহ বহুদূর গড়ায়। ফলে এই ঘটনার কতটা তদন্ত হবে সন্দেহ আছে বলে জানান।
পাশাপাশি বলেন গত আট বছরে আইনের শাসন রাজ্যে নেই। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ভূলুন্ঠিত।
ত্রিপুরা পুলিশ শাসক দলকে রক্ষা করে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, কেউ ছাড়া পাবে না।
অথচ দুই একজন ধরা পড়লে দেখা যায় তারা শাসক দলের নেতা মন্ত্রীর সঙ্গে ফটো সেশন করেছেন।
অপরদিকে জাতীয় সড়ক নিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের জাতীয় সড়কগুলি চলাচলের উপযুক্ত নয়।
প্রতিদিন দুর্ঘটনা এবং গাড়ি আটকে থাকার দৃশ্য সামনে আসছে। শুক্রবার বিধায়কদের একটি
প্রতিনিধি দল খোয়াই সুবল সিং এলাকায় গিয়েছিলেন। তখন তারা জানতে পারে বহু ঠিকাদার
কাজ করতে এসে আবার চলে গেছেন। কারণ সোর্স মানি এবং কাঠ মানি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ
করেছে ত্রিপুরা রাজ্যে। এতে বোঝা গেছে আগামী দু-তিন বছরেও জাতীয় সড়ক এমন থাকবে। একই
সঙ্গে রাজ্যে বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি পাওয়ার এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল
দশা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গত দুদিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়েছে এই পরিস্থিতির জন্য আগামী দিনে আগরতলা শহরে এবং যে সমস্ত মহাকুমা গুলি
দিয়ে জাতীয় সড়ক এসেছে সেসব মহকুমা গুলিতে সভা করা হবে। অপরদিকে শ্রমিক ও কৃষকদের
স্বার্থে আগামী ১০ আগস্ট সর্বভারতীয় কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে ত্রিপুরা রাজ্য আইন ভঙ্গের
মধ্য দিয়ে জেল ভরো কর্মসূচি পালন করা হবে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির
কারণে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আগরতলা শহরে একটি কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছি
তিনি। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক সুধন দাস,
সিআইটিইউ-র রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর প্রসাদ দত্ত, সিপিআইএম পশ্চিম ত্রিপুরা
জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাস।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান