স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৮ অক্টোবর :কদমতলা ব্লকের সামনে কালাগাঙ্গার পাড়ের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে এদিন সকালে পথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিপিআইএম। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল প্রায় ১০ টার দিকে রাজ্য সম্পাদক অমিতাভ দত্ত, বিধায়ক ইসলাম উদ্দিন ও জহরুল হকের নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকরা ব্লকের সামনে সমবেত হন। অন্যদিকে একই সময়ে শাসক বিজেপি দলের তরফে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ধন্যবাদ র্যালির আয়োজন করা হয়।
ফলে এলাকায় দুই দলের কর্মসূচি একসঙ্গে পড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল আঁটোসাঁটো। এসময় সিপিআইএম-এর কর্মীরা অবরোধে বসার আগেই পিছন দিক থেকে বিজেপির ধন্যবাদ র্যালি এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে দেখে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে কদমতলা বাজার সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। বিজেপির জেলা সভাপতি কাজল দাস, কদমতলা কুর্তি মণ্ডল সভাপতি বিমল পুরকায়স্থ ও বিদ্যাভূষণ দাসের নেতৃত্বে র্যালিটি বাজার অভিমুখে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ, টিএসআর ও আধাসামরিক বাহিনী ব্যারিকেড দিলেও তা কার্যত ব্যর্থ হয়। পরে র্যালিটি সিপিআই(এম)-এর কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে উপস্থিত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর তৎপরতায় বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।
এসময় বিজেপি কর্মীরা সিপিআইএমের উদ্দেশে একের পর এক স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং দশ মিনিটের মধ্যে স্থান ত্যাগের হুঁশিয়ারি দেন। শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন সিপিআইএম-এর কর্মীরা। ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসের প্রদেশ সম্পাদক আব্দুল বাছিত চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন,
সিপিআইএম দল ক্ষমতায় থাকলে বাঘ, আর ক্ষমতা হারালে বিড়ালের চেয়েও ভীতু! আজকের ঘটনাই তার প্রমাণ। তিনি আরও দাবি করেন, এদিন সিপিআইএম-এর কর্মী সংখ্যা ছিল অল্প, এবং শাসক বিজেপির রক্তচক্ষুর ভয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রতিবাদ করতেও সাহস দেখাতে পারেননি তারা। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।

