স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ অক্টোবর : নেশার সাম্রাজ্যে ভাসছে আমতলী থানাধীন বিভিন্ন এলাকা। এবার দুই নেশা সম্রাট পিস্তল দিয়ে দুই নাবালককে রক্তাক্ত করে। ঘটনা শুক্রবার রাতে আমতলী থানাধীন অশ্বিনী মার্কেট স্থিত দুর্গা কলোনী এলাকায়। আহত দুই নাবালকের নাম সন্দীপ সরকার এবং সত্যদ্বীপ সরকার। দুই নেশা সম্রাটের নাম হল তন্ময় মজুমদার এবং ইন্দ্রজিৎ কর। তারা এলাকার বড় মাপের নেতার আশীর্বাদ নিয়ে গেরুয়া রামাবলি পড়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত। আমতলী থানার পুলিশকেও তারা ম্যানেজ করে চলে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, টু শব্দ পর্যন্ত করা হয় না। শুক্রবার রাতে দুই নাবালক তাদের পিসির বাড়িতে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে বসে দুই নেশা সম্রাট আরো কিছু যুবককে নিয়ে দেদার মদের আসর চালিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় দুই নাবালক তাদের দিকে তাকানোতেই তারা ক্ষেপে যায়। দুই নাবালককে ডেকে নিয়ে পকেট থেকে পিস্তল বের করে দুই নাবালকের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে বলে অভিযোগ। পরে দুই নাবালকের চিৎকার শুনে ছুটে আসে আশেপাশের লোকজন। এবং অভিযুক্ত দুই যুবক সহ বাকিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে আহত দুই নাবালককে উদ্ধার করে হাঁপানিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আমতলী থানার পুলিশ।
কিন্তু পুলিশ তাদের টিকির নাগালও পায়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরে দুই নাবালকের পরিবার আমতলী থানায় অভিযোগ করতে গেলে দুই নাবালকের পরিবারকে পুলিশ জানিয়ে দেয় কিছু পয়সা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হবে। মামলা করার কোন প্রয়োজন নেই। এমনটাই অভিযোগ এক নাবালকের কাকা। সুশাসন জামানায় নেশা সম্রাটের ভয়ে পুলিশ ভীতু নাকি মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে? এটাই প্রশ্ন উঠে আমতলী থানার পুলিশের ভূমিকায়। পুলিশের মামলা নিয়ে দুজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। নাহলে পুলিশের এমন প্রশ্রয় সাধারণ মানুষকে আরো বেশি আতঙ্কিত করে তুলবে। পাশাপাশি পুলিশের উপর থেকে ভরসা উঠে যাবে।

