Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যস্যন্দন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মায়ের কোল ফিরে পেল তিন মাসের...

স্যন্দন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মায়ের কোল ফিরে পেল তিন মাসের শিশু কন্যা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ সেপ্টেম্বর : সন্তান গর্ভে আসার পর ও ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মাতৃত্ববোধ জন্মায় যে কোন নারীর মধ্যে। আর সেই সন্তান অভাবের তাড়নায় বিক্রি করে দিতে হয় সুশাসন জামানায়। কিন্তু সন্তানের চেয়ে যে অর্থের মূল্য কত কম সেটাই আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এক জগদ্ধাত্রী মাকে। পরিবার-পরিজনের কথা শুনে বিক্রি করেছিলেন ফুটফুটে সন্তানকে। সেই সন্তান বিক্রি করার পর এই মায়ের হুঁশ জ্ঞান ফিরলো তিনি একজন সুভাগ্যবান মা। সংবাদ মাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান।

তারপর স্যন্দন পত্রিকা ও স্যন্দন টিভির খবরের জেরে পুনরায় কূলে ফিরে পেলেন সন্তানকে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার অভাবের তাড়নায় ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি তিন মাসের শিশু কন্যা বিক্রি করে দেওয়ার খবর প্রকাশিত হতেই করবুক মহকুমা প্রশাসনে দৌড় ঝাঁপ শুরু হয়। শিলাছড়ি শুকনাছড়া থেকে বিক্রি হয়ে যাওয়া তিন মাসের শিশু কন্যাটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আরক্ষা প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করে। শনিবার সকালে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গমঞ্জয় রিয়াং এর নেতৃত্বে করবুক ও শিলাছড়ি থানার যৌথ উদ্যোগে বাচ্চাটি উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গমঞ্জয় রিয়াং এর নেতৃত্বে করবুক থানার পুলিশ জলেয়া মধু মগ পাড়ায় রঞ্জিত চাকমার বাড়িতে গিয়ে বিক্রি হওয়া শিশু কন্যাটির সন্ধান পায়। অপর দিক থেকে শিলাছড়ি থানার পুলিশ শিশুকন্যাটির প্রকৃত পিতা কাঞ্চন চাকমা ও মাতা সান্তনা চাকমাকে দিতে জলেয়া রঞ্জিত চাকমার বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়। প্রথমে রঞ্জিত চাকমা ক্রয় করে আনা শিশু কন্যাটিকে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করলেও পরবর্তী সময় তিন মাসের শিশু কন্যাটিকে তার প্রকৃত পিতা-মাতার হাতে তুলে দেয়।

 শিশুকন্যাটি বিক্রি বাবদ যে অর্থের লেনদেন হয়েছিল তার সম্পূর্ণ টাকায় রঞ্জিত চাকমাকে ফিরিয়ে দেন কাঞ্চন চাকমা। পরবর্তী সময় শিশু কন্যা সহ তাদের পিতা-মাতাকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেয় শিলাছড়ি থানার পুলিশ। সংবাদের জেরে বিক্রি হওয়ার শিশু কন্যাটি তার প্রকৃত মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আরক্ষা প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করায় অবশেষে শিশু কন্যাটি তার মায়ের কুল ফিরে পায়। কিন্তু যে অভাবের তাড়নায় তারা শিশু কন্যাটিকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে সে অভাব লাঘব করতে প্রশাসন কি কোন উদ্যোগ গ্রহণ করবে? সেদিকে তাকিয়ে অসহায় পরিবারটি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য