স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর : ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের আগে ধারাবাহিকভাবে প্রধান শাসক দল বিজেপি-র উপর আক্রমণ চালিয়ে শক্তির জানান দিয়ে চলেছে শরিকদল তিপরা মথা। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য সফরের ২৪ ঘন্টা আগে এবং ২৪ ঘন্টা পরে দুটি পৃথক ঘটনা ঘটিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে সেটা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফরের আগের দিন হেজামারায় বিজেপির নেতা কর্মীদের পিটিয়ে তক্তা বানালো শরিক দল তিপ্রা মথার কর্মী সমর্থকরা।
তিপ্রা মথার আক্রমণে গুরুতর ভাবে আহত হয় প্রদেশ বিজেপি-র জনজাতি মোর্চার সহ-সভাপতি মঙ্গল দেববর্মা সহ পাঁচজন। তারা বর্তমানে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে জিবি হাসপাতালে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী এইদিন জিবি হাসপাতালে গিয়ে আহত বিজেপি নেতা মঙ্গল দেববর্মার সাথে কথা বলেন। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে অবগত হন। তারপর মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে কথা বলে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফরের আগের দিন বিজেপি হেজামারা মণ্ডলের উদ্যোগে সেখানকার জনজাতি মহিলাদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বিজেপির সেই বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। সেখানে কর্মরত একজন সাংবাদিককেও মারধর করা হয়েছে। তার অপরাধ সে বিজেপির কর্মসূচির সংবাদ সমগ্র করতে গিয়েছে। সাংবাদিকের কোন রাজনৈতিক পরিচয় হয় না। সে কেন ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যক্রমের ছবি তুলছে তার জন্য তার উপর আক্রমণ করে দুর্বৃত্তরা। তারপর সহ সভাপতি মঙ্গল দেববর্মা এগিয়ে আসলে তার উপর আক্রমণ করেছে দুর্বৃত্তরা। তাদের কাছ থেকে জানা গেছে মথা এই কাজ করেছে। কিন্তু এগুলি করে আর কতদিন তাদের রাজনীতি চলবে? মুখ্যমন্ত্রী এইদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন আইন আইনের রাস্তায় চলবে। আইনের বেড়াজালে যখন তারা আটকাবে তখন কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না। এই রাজনীতি থেকে মথাকে বের হয়ে আসতে হবে।
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এগুলো করলে তারা রাজনীতি করতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী আর বলেন তারা শরিক দল। সুতরাং শরিক দল শরিক দলে জায়গায়। আইন আইনের কথা বলবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অযথা কাউকে মারবে সেই রাজনীতির বিশ্বাসী নয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, মঙ্গলবার মান্দাইয়ে একটি বিজেপি-র দলীয় কার্যালয় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এর পেছনে চক্রান্ত রয়েছে, অনেক লোক এর সাথে জড়িত। এবং এই ঘটনাগুলির রিপোর্ট উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকলে জানছে এই খবরগুলি। এগুলো শেষ হবে। কারণ মানুষ এইগুলি গ্রহণ করে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এভাবেই জিবি হাসপাতালে দাঁড়িয়ে শরিক দলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কোন ভাবে বরদাস্ত হবে না তাদের চক্রান্ত। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো প্রধানমন্ত্রী রাজ্য সফর করার ২৪ ঘন্টার পর মান্দাই দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে মথা বাহিনী বলে অভিযোগ। যার গোটা দলের কাছে আত্মঘাতী আক্রমণ বলা চলে। কোন পর্যায়ে এগোচ্ছে শরিক জোট সেটা প্রশ্ন আমজনতার? শুধু তাই নয়, শরিক দলে থেকে এ ধরনের আক্রমণ প্রধান শাসকদলের উপর সেটা হয়তো ভূ ভারতে নজিরবিহীন ঘটনা এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মুখ পুড়ার মত অবস্থা। যাদের জামাই আদর করে সরকারের মধ্যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাদের হাতেই আক্রমণ হবে সেটা কোনোভাবেই মানতে পারছে না এবার সরকার প্রধান।

