স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর : মির্জায় গৃহবধূ অঞ্জলি সরকারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বলেন, মৃতা গৃহবধূ অঞ্জলি সরকারের স্বামী পঙ্কজ সরকারের অভিযোগ মূলে পাঁচজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আইন মেনে যা যা করার তার সবটাই করছে পুলিশ। এদিকে মির্জা কান্ডে অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার তার ভাইপো অনুপম মজুমদারকে নিজ উদ্যোগে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বিধানসভার পরিষদীয় নেতা রতন লাল নাথ সকলের উপস্থিতিতে বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদারকে প্রনাম করেন।
এই ঘটনার পর অবশ্য পরিষদীয় নেতা রতনলাল নাথ এদিন বিধানসভায় রীতিমতো ট্রোল্ড হয়ে গেলেন। উল্লেখ্য, উদয়পুরের কাঁকরাবন থানার অন্তর্গত মির্জা এলাকার বাসিন্দা পঙ্কজ সরকার। পঙ্কজ সরকারের স্ত্রী অঞ্জলি সরকার। মির্জা বাজারে ছোট একটি দোকান করে সংসার চালায় পঙ্কজ সরকার। জানা যায় পঙ্কজ সরকারের স্ত্রী অঞ্জলি সরকারকে বেশকিছুদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল এলাকার বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদারের ভাইয়ের ছেলে মান্না মজুমদারের বন্ধু লিটন দাস। অঞ্জলি সরকারকে তার আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে তার সাথে সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর অঞ্জলি সরকার সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। এই নিয়ে এলাকায় শালিসি সভাও হয়। তারপর কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সম্প্রতি লিটন দাস পুনঃরায় তার সাথে সম্পর্ক করার জন্য অঞ্জলি সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। বিষয়টি জানা জানি হওয়ার পর পঙ্কজ সরকার তার প্রতিবাদ জানায়।
কিন্তু বিধায়কের ভাইয়ের ছেলে মান্না মজুমদার তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পঙ্কজ সরকারের দোকানে গিয়ে পঙ্কজ সরকারকে মারধর করে। পরবর্তী সময় পঙ্কজ সরকার কাঁকড়াবন থানায় গিয়ে অভিযোগ জানায়। থানা থেকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময় পঙ্কজ সরকারকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। রাতে বাড়িতে গিয়ে পঙ্কজ সরকার খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বাড়ির অপর ঘড়ে ঘুমায় অঞ্জলি সরকার। গত শুক্রবার ভোরে অঞ্জলি সরকারের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয় বাড়ির অদূরে মির্জা বাজার থেকে। অঞ্জলি সরকারের স্বামী পঙ্কজ সরকারের অভিযোগ লিটন দাস, বিধায়কের ভাইয়ের ছেলে মান্না মজুমদার সহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা এই ঘটনা সংগঠিত করেছে।

