আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : আগামী ১৩ অক্টোবর ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিল ত্রিপুরার নাগরিক সমাজ। শনিবার আগরতলায় এমএলএ হোস্টেলের কনফারেন্স হলে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা জানান তিপ্রা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক অসিত দাস, সুরেন দেববর্মা, হরিধন রিয়াং, হীরালাল দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা আরও জানান ত্রিপুরা সরকার ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে রাজ্যে অবৈধ বিদেশী অভিবাসীদের সনাক্ত করার জন্য কোনও উদ্যোগ নেয়নি। সবচেয়ে আশ্চর্যজনকভাবে, ত্রিপুরায় অবৈধ অভিবাসীদের সনাক্ত এবং বহিষ্কারের জন্য কোনও প্রশাসনিক অভিযান শুরু হয়নি।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ত্রিপুরা সরকারের প্রধান সচিবকে (স্বরাষ্ট্র) অবৈধ অভিবাসীদের সনাক্ত এবং বহিষ্কারের জন্য অভিযান শুরু করতে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অসম সরকার ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করেছে এবং অসম থেকে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী সনাক্ত করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রঞ্জিত দেববর্মা আরও বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন তথা সিএএ ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়া অটনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর এক্তিয়ারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই অবস্থান থাকা সত্ত্বেও, আশ্চর্যজনকভাবে উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসম সহ ভারতের প্রায় সকল রাজ্য সরকার তাদের নিজ নিজ রাজ্যে “ডিটেনশন ক্যাম্প” নির্মাণ করেছে। ত্রিপুরায় অবৈধ অভিবাসীরা কোনও বাধা ছাড়াই অবাধে চলাচল করছে।
তিনি জানান, ভারত সরকার বিএসএফ এবং আসাম রাইফেলসের অফিসার এবং কর্মীদের নিয়ে বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গঠনের জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। ত্রিপুরা রাজ্য সরকার কেবলমাত্র একজন অফিসার-ইন-চার্জ এবং একজন ডেপুটি এসপি-র নাম নিয়ে “বিশেষ টাস্ক ফোর্স”-এর একটি দল গঠন করেছে। কোনও হেড কোয়ার্টার নেই, কোনও মোবাইল সিম কার্ড নেই, কোনও গাইড রুল নেই, কোনও কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা এবং কর্মী “স্পেশাল টাস্ক ফোর্স”-এর দলে অন্তর্ভুক্ত নেই। সংক্ষেপে, এটি ছিল ত্রিপুরার জনগণের চোখ ধোলাই করার একটি প্রচেষ্টা।
রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে ত্রিপুরায় বিদেশীদের ব্যাপক অনুপ্রবেশ চলছে। ত্রিপুরা রাজ্যে এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করার জন্য “ইনার লাইন পারমিট” একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। দীর্ঘদিনের বৈধ দাবি উপেক্ষা করে ত্রিপুরা রাজ্যে এই “ইনার লাইন পারমিট” এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ত্রিপুরায় “ইনার লাইন পারমিট” ভারতের অন্যান্য রাজ্যের আগত এবং বহির্গামী যাত্রীদের পাশাপাশি বিদেশীদের জন্য একটি লিখিত রেকর্ড সংরক্ষণ করবে।

