স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর :শহরের বুকে বারের লাইসেন্সে গড়ে উঠা অঘোষিত নাইট ক্লাবে লাইসেন্স বাতিল করে দিলো পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন। যার মধ্যে রাতারাতি গজিয়ে উঠেছিল অপসংস্কৃতি। সংবাদ মহল এবং রাজ্যের সচেতন নাগরিকের চাপে পড়ে সেই অপসংস্কৃতি বুঝতে বাধ্য হল সরকার। মঙ্গলবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আবগারি কালেক্টর ড. বিশাল কুমার এই নির্দেশ জারি করেছেন। গত ৩০ আগস্ট আগরতলা রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের পাশে হ্যাপিয়েস্ট আওয়ার রেস্তোরাঁ কাম বারের লাইসেন্স দিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

উদ্বোধনের রাতেই প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘন করে কর্ণধার গৌতম দেবনাথ এটা নাইট ক্লাবে পরিণত করেছিলেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ছুটে যেতে হয়েছিল পুলিশ প্রশাসনকে। তারপরেই নড়েচড়ে বসে সচেতন নাগরিক মহল। প্রথম প্রতিবাদ জেগে ওঠে রাজ্যের সংবাদ মহল থেকে। তারপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা গোটা বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রথম অবস্থায় শোকজ নোটিশ ধরানো হয়েছিল। সেই নোটিশের উত্তর দিতে পারল না অঘোষিত নাইট ক্লাবের কর্ণধার। মঙ্গলবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আবগারি কালেক্টর ড. বিশাল কুমার এক আদেশে জানান, লাইসেন্সধারী গৌতম দেবনাথ একাধিকবার আবগারি আইনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার পরেও ওই বারে মদ পরিবেশন ও পান চলছিল। যা লাইসেন্সের শর্তবিরোধী। এমনকি অনুমতি ছাড়াই গভীর রাত পর্যন্ত ডিজে ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। যা নাইট ক্লাব সংস্কৃতির আকার ধারণ করেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায়ও এ তথ্য প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্সধারী বারের কর্মরত কর্মীদের তালিকা জমা দেননি, শো-কজ নোটিশেরও উত্তর দেননি। ফলে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম-কানুন লঙ্ঘন করেছেন। আদেশে বলা হয়েছে, “ত্রিপুরা আবগারি আইন, ১৯৮৭ এর ধারা ৪০ (১)(গ) অনুযায়ী শ্রী গৌতম দেবনাথের অনুকূলে জারি করা নং ৯৭ লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হলো।” সেইসঙ্গে লাইসেন্স নথি, মদের মজুদ, রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ অবিলম্বে জেলা আবগারি দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশ অমান্য করলে আবগারি আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের সহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসক জানিয়েছেন প্রথম দিন রাতের বেলায় অভিযোগ পেয়েছিল প্রশাসন। পরে তদন্তে বের হয়ে আসে কিছু নিয়ম কানুন লঙ্ঘন করেছে বার কর্তৃপক্ষ। তারপর শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি তদন্তের আওতায় আনা হয় হ্যাপিয়েস্ট আওয়ার। তারপর বহু অনিয়ম নজরে আসে প্রশাসনের। সেই অনিয়মের জন্য হ্যাপিয়েস্ট আওয়ারের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা শাসক বাকি সমস্ত বারের উদ্দেশ্যে আরো জানিয়েছেন, বার পরিচালনা করার ক্ষেত্রে যাতে অবশ্যই সরকারি নিয়মকানুনের মান্যতা দেওয়া হয়। নাহলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

