স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর : দীর্ঘ বছর ধরে জিবি হাসপাতালে ঘুষের সংস্কৃতি আর বদলায় নি। হাসপাতালে পা রাখা মাত্রই রোগীর পরিবারের ঘুষের জন্য মোটা টাকার বান্ডেল পকেটে রাখতে হতো। রোগীকে ট্রলিতে তোলা, এক্সরে, সোনোগ্রাফি সহ কোনরকম পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে যাওয়া এবং রোগীকে দেখাশোনা করা এবং যেকোনো ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ব্যয় হয় জিবি হাসপাতালে আসা বিভিন্ন রোগীর পরিবারের। মঙ্গলবার এক রোগীর সার্জারির পর ওয়ার্ডে নিয়ে এসে ৫০০ টাকা পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় হাসপাতালের কর্মীরা।
তারপর সেই রোগীর পরিবারের অন্য সদস্য জানতে পেরে সরাসরি হাসপাতালে মেডিকেল সুপার সংকর চক্রবর্তীর কাছে অভিযোগ জানান। তড়িঘড়ি জিবি ফাঁড়ির পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মেডিকেল সুপার ওয়ার্ডে ছুটে এসে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেন। যারা ৫০০ টাকা রোগীর পরিবারের কাছ থেকে নিয়েছিল তাদের চিহ্নিত করেন তিনি। তারপর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন সরকারি হাসপাতালে এভাবে ঘুষ নেওয়া অত্যন্ত অপরাধ। এ ধরনের কার্যকলাপ কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যারা আজকে এই ঘটনা সংগঠিত করেছে তারা সকলেই আউটসোসিং কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। যারা প্রতিদিন এভাবে ঘুষ নেয় রোগীর পরিবারের কাছ থেকে তাদের সতর্ক করে দেন মেডিকেল সুপার। তিনি বলেন গোটা হাসপাতালে ওয়ার্ড মাস্টারের নম্বর দিয়ে পোস্টিং করা হয়েছে। কেউ ঘুষ চাইলে সাথে সাথে অভিযোগ জানাতে পারবে ওয়ার্ড মাস্টারের কাছে।
প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উনাকেও অবগত করতে পারবেন। সাথে সাথে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কড়া হুশিয়ারি দেন মেডিকেল সুপার। রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। আগে কেউ এর প্রতিবাদ না করার কারণে দিন দিন এই নীতি চলে আসছিল বলে অভিমত রোগীর পরিবারের। এখন দেখার বিষয় কতটা ঘুষের নীতি বদলায় জিবি হাসপাতালে। মানুষ প্রতিদিন বহু অসহায় হয়ে রোগী নিয়ে যায় হাসপাতালে। কিন্তু স্পেশাল নার্স থেকে শুরু করে সাফাই কর্মী ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের মোট অংক গচ্ছা দিতে হয়। না হলে রোগীকে হাত লাগাতে চান না তারা। এক প্রকার ভাবে ঘুষের সাম্রাজ্য সৃষ্টি করে রেখেছে জিবি হাসপাতালে। মনুষ্যত্বহীন ভাবে প্রতিদিন বহু রোগীর পরিবারকে নাস্তানাবুদ করে চলেছে তারা। স্বাস্থ্য দপ্তর সবকিছু জেনে বুঝে ঘুষের নীতি বদলানোর কোনরকম ব্যবস্থা নেয়নি এতদিন। মঙ্গলবার যখন এক রোগী পরিবার প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন তখন মেডিকেল সুপার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেন। এখন এই অপসংস্কৃতি কতটা বদলায় সেটাই দেখার বিষয়।

