স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৪ সেপ্টেম্বর : ডাইনি অপবাদ দিয়ে ২৬ বছরের গৃহবধূর হাত পুড়িয়ে দিল শশুর বাড়ির লোকজন। অসহায় গৃহবধু ও স্বামী সুস্থ বিচার চায় পুলিশের কাছে।
ঘটনা খোয়াই প্রহর মুড়া এলাকায়। বাইজাল বাড়ি থানার অন্তর্গত পূর্ব বেল ছড়া এলাকার বাসিন্দা সুনীল ঝরার মেয়ে সনজিতা ঝরাকে খোয়াই ধলাবিল পঞ্চায়েতের অন্তর্গত প্রহর মুড়া এলাকার বাসিন্দা সঞ্জিত ঝরা কাছে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকেই সনজিতা ঝড়াকে শশুর বাড়ির সদস্যরা অর্থাৎ সনজিতের ভাই ভাইয়ের বউ এবং বোনেরা সনজিতের স্ত্রী সঞ্জিতা ঝড়াকে ডাইনি বলে সন্দেহ করে। শশুর বাড়ির লোকজন তাদের এলাকার উঝার কাছে সনজিৎ -এর স্ত্রীকে ডাইনির বিষয়টি জানতে গেলে ওঝাও নাকি বলেছেন সঞ্জিতা ডাইনি।
এর পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার দিন গৃহবধূ সনজিতা ডাইনি কিনা সেটা পরীক্ষার জন্য গৃহবধূর পিতা সুনীল ঝড়াকে ডাকেন শশুর বাড়ির লোকজন। যথারীতি গৃহবধুর পিতা ও স্বামীকে ঘরের বাইরে রেখে এবং দরজা বন্ধ করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন মধ্যযুগীয় বর্বরতা অবলম্বন করে ডাইনি কিনা পরীক্ষা করেন। শেষে গোটা ঘটনাটি বৃহস্পতিবার বিকেলে খোয়াই জেলা হাসপাতালে সাংবাদিকদের ক্যামেরা সামনে সঞ্জীতার পিতা সুনীল ঝরা বিস্তারিত ভাবে বলেন। সুনীল ঝড়া বলেন আমাকে এবং জামাতাকে ঘর থেকে বের করে দরজা বন্ধ করে ডাইনি পরীক্ষা করার জন্য একটি মোমবাতি জ্বালান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শশুর বাড়ির লোকের বক্তব্য যদি সনজিতা ডাইনি না হয় তাহলে মোমবাতির আগুনে হাত পুড়বে না। আর যদি ডাইনি হয়, তাহলে হাত পুড়ে যাবে।
এই বলে সনজিতার হাত জোড় করে দেবর অঞ্জন ঝরা, রঞ্জন ঝরা, অনজিৎ ঝরা মোমবাতির আগুনে ধরে রেখে দেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত মোমবাতি পুড়ে শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত জোর করে ধরে রেখে দেন। অন্যদিকে সনজিত আর আরেক দেবর অঞ্জৎ ঝরা কাশর ঘন্টা জোরে বাজাতে থাকেন। যাতে সনজিতার চিৎকার বাইরের কোন মানুষ শুনতে না পান। ঘটনার পরবর্তীতে সনজিত আর পিতা সুনীল ঝরা স্থানীয় পঞ্চায়েতের তথাকথিত মুরুব্বিদের জানান। এই ঘটনাটি পুলিশকে জানান গৃহবধূর বাবা। তিনি চান পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। যাতে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। গোটা গ্রামবাসীও দাবি করলেন অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নাহলে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে আদালত পর্যন্ত যেতে পারে বলে জানান গ্রামবাসী। কারণ এটা গৃহবধূকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে বলে মনে করছে গ্রামবাসী। এখন দেখার বিষয় পুলিশ প্রশাসন কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে অভিযুক্তদের দ্রুত জালে না তুললে গ্রামে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

