স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: আর মাত্র কিছুদিন। তারপরই বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদোৎসব। ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমায় অবস্থিত ক্লাব গুলি তাদের মতো করে পুজার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। শারদোৎসবকে বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব বলা হলেও এই শারদোৎসব গরিব, মেহনতি, যান শ্রমিকদের জীবনে নামিয়ে আনে দুঃখ দুর্দশা। কারন বিভিন্ন ক্লাব গুলি দুর্গা পুজার চাঁদার জন্য রীতিমতো ঝুলুমবাজি চালিয়ে যায়।
বিগত বছরও একাধিক ক্লাবের বিরুদ্ধে চাঁদা নিয়ে ঝুলুম বাজির অভিযোগ উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী বাধ্য হয়ে ক্লাব গুলিকে চাঁদা নিয়ে ঝুলুম বাজি না করার জন্য কড়া বার্তা দেন। বিগত বছরের ন্যায় এই বছরও চাঁদা নিয়ে ইতিমধ্যে আগরতলা মহারাজগঞ্জ বাজার সব্জি ব্যবসায়ী সমিতি, ফটিক রায় রাজনগরে এলাকার শান্তি সংঘ ক্লাব, ৮২ মাইল এলাকার ইয়ং রাইজিং স্টার ক্লাব, মনু ঘাটের ছত্রপতি ক্লাব, চোরাই বাড়ি বাজার সার্বজনীন দূর্গা পূজা কমিটি, পূর্ব চোরাই বাড়ি শিবশক্তি আশ্রম, চুড়াইবাড়ি তরুণ সেবা দল, চাকমাঘাট পুরাতন বাজারের সি এস সি পূজা কমিটি, কুমারঘাট রতিয়াবাড়ি স্থিত যুবক সংঘ, আগরতলা স্থিত ত্রিপুরা ট্রাক ড্রাইভার মজদুর সংঘ, মনু ঘাটের বুলেট ক্লাব ঝুলুম বাজি শুরু করে দিয়েছে। জাতীয় সড়কে গারি দাড় করিয়ে চাঁদা আদায় করা যায় না।
কিন্তু একাংশ ক্লাব আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কে সন্ধ্যার পর যানবাহন দাড় করিয়ে নিজেদের মতো করে চাঁদা আদায় করে। এই সকল ক্লাব গুলি রীতিমতো চাঁদা নিয়ে ঝুলুম বাজি করে থাকে যান চালকদের সাথে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে চাঁদা নিয়ে ঝুলুম বাজি না করার জন্য ক্লাব গুলিকে বার্তা দেন। কিন্তু কার বার্তা কে শুনে। সুশাসনের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একাংশ ক্লাব ইতিমধ্যে রাতের বেলায় আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কে যান বাহন দাড় করিয়ে চাঁদার জন্য ঝুলুম বাজি শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর জেলার কুমারঘাট–ফটিকরায় এলাকায় একাধিক ক্লাব ট্রাক চালকদের আটকে চাঁদার জন্য ঝুলুম বাজি করে বলে অভিযোগ। এমনকি মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেওয়ায় কয়েকজন যান চালককে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে বুধবার সকালে ক্ষুব্ধ ট্রাক চালকরা একত্রিত হয়ে আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের ধর্মনগর মহকুমার চুড়াইবাড়ি থানার অন্তর্গত চানপুর এলাকায় সড়ক অবরোধে সামিল হয়। সড়ক অবরোধের ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাস্তার দুই পাসে আটকে পরে বহু যানবাহন। যান চালকরা জানান তারা গারি চালান বলে নিচে নেমে যান নি। মঙ্গলবার রাতে কুমারঘাটের ফটিকরায় এলাকার শক্তি সংঘ ক্লাবের সদস্যরা তাদের কাছে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে।
তারা ৫০০ টাকা কিংবা ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে চাইলে তাদেরকে মারধর করে। তাদের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে জোড় করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে গেছে। শক্তি সংঘ ক্লাবের সদস্যরা দা, কুড়াল নিয়ে গারি দাড় করিয়ে জোড় পূর্বক তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে। তারা পুলিসকে খবর দিতে চাইলে ক্লাবের সদস্যরা তাদেরকে প্রান নাশের হুমকি দিয়েছে। তাই তারা এইদিন সড়ক অবরোধে সামিল হয়েছে। এইদিন তারা ন্যায় বিচারের দাবি জানায়। অপর এক যান চালক জানান ফটিক রায়ের একটি ক্লাবের সদস্যরা প্রতি রাতে জোড় পূর্বক তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে। তারা যেন পুলিসকে খবর দিতে না পারে তার জন্য ক্লাবের সদস্যরা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে দেয়। যান চালকদের বক্তব্য তারা নিজেদের মতো করে ৫০০ কিংবা ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে চায়। কিন্তু ক্লাবের সদস্যরা ৫ হাজার টাকার নিচে চাঁদা নিতে নারাজ। প্রতিরাতে তাদেরকে এই হয়রানির শিকার হতে হয়। বহিঃরাজ্যে তাদেরকে চাঁদার জন্য হয়রানির শিকার হতে হয় না। একমাত্র ত্রিপুরা রাজ্যে চাঁদা নিয়ে তাদের উপর ঝুলুম বাজি করা হয়। চাঁদা না দিলে গারি থেকে মাল পর্যন্ত নামিয়ে নিয়ে চলে যায় কুমারঘাটের ক্লাব গুলি। এইদিন সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ যান চালকদের আশ্বাস দেয় সহসাই চাঁদা নিয়ে ঝুলুম বাজি বন্ধ করা হবে। চাঁদা নিয়ে ঝুলুম বাজি বন্ধ করার জন্য প্রশাসন থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ক্ষুব্ধ যান চালকরা এইদিন হুশিয়ারি দেয় চাঁদা নিয়ে ঝুলুম বাজি বন্ধ করা না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। এখন দেখার প্রশাসন রাজ্য জুড়ে চাঁদা নিয়ে ঝুলুম বাজি বন্ধ করতে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

