স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩০ আগস্ট : দীর্ঘ ২৫ বছর পূর্বে প্রয়াত হয়েছিলেন যোগেন্দ্রনগর এলাকার সিপিআইএম নেতৃত্ব ডঃ অজিত রায় চৌধুরী। ওনার প্রয়াণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিদ্যাসাগর পার্টি অফিসে শহিদ ডঃ অজিত রায় চৌধুরীর শহিদান দিবস পালন করা হয়। একই সাথে এইদিন এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে ডি ওআইএফআই যোগেন্দ্রনগর অঞ্চল কমিটি। এই দিনের রক্তদান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বিধায়ক রামু দাস সহ অন্যান্যরা। এইদিনের রক্তদান সিবিরের উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার বলেন ফ্যাসিবাদি রাস্তায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।
মানুষ কাজ পাচ্ছে না। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দোকানদাররা দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে কারন ব্যবসা হচ্ছে না। অথচ সেই দিকে নজর নেই বর্তমান সরকারের। ত্রিপুরা রাজ্যেও একই অবস্থা। অত্যাচারীরা ইতিহাস লিখে না। অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করে তারাই ইতিহাস লিখে। তিনি আরো বলেন, আরএসএস ফ্যাসিস্ট ভাবনা চিন্তার ধারক এবং বাহক।
তারাই বিজেপি সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ত্রিপুরা রাজ্যের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের পর যতগুলো নির্বাচন সংঘটিত হয়েছে সবগুলি নির্বাচন বিজেপি প্রহসনে পরিণত করেছে। এবং উপজাতি অংশের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিজেপিকে মদত দিয়েছে তিপরা মথা। এখন এই বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ত্রিপুরা রাজ্যকে পরিচালনা করছে। রাজ্যে তারা সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটরাজ করে এক অরাজক পরিস্থিতি কায়েম করে রেখেছে। এটা শাসক দল বিজেপির দুর্বলতা। এমন দুর্বলতা শুধু ত্রিপুরায় নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এমন দুর্বলতা ফুটে উঠেছে বিজেপির। গত লোকসভা নির্বাচনেও এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। ভারতীয় জনতা পার্টি ভারতী করে বুঝতে পারছে এই দুর্বলতা দেশে বেশি দিন চলতে দেওয়া যাবে না এবং প্রহসন করে বারে বারে সরকারে আসা সম্ভব হবে না।
পাশাপাশি নির্বাচনও বাতিল করতে পারবে না। তাই ভেতর থেকে ভোট অন্তঃসারশূন্য করে দেওয়ার জন্য বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের মতো করে তৈরি করেছেন। এই নির্বাচন কমিশন ব্যবহার করে তাদের পছন্দমত ভোটার তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করছে। বিহার দিয়ে শুরু হয়েছে, ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিল করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু অংশের মানুষ এবং কৃষক ও শ্রমিক। বিহারের যদি তারা সফল হয়ে যেতে পারে তাহলে তারা আসন্ন নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করে ফেলতে পারবে। পরবর্তী সময় তারা পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, কেরালা সহ অবিজেপি রাজ্যগুলির মধ্যে এই পদ্ধতি অনুসরণ করবে। তাই এস.আই.আর -এর এই পদ্ধতিকে সিপিআইএম দাবি করে নতুন ফ্যাসিবাদী পদ্ধতি। এটা হলো গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেওয়ার অন্যতম পদ্ধতি। তাই এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে বলে জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পরবর্তী সময়ে রক্তদান শিবির ঘুরে দেখেন। রক্তদাতাদের অভিনন্দন জানান তিনি।

