স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩০ আগস্ট : দীর্ঘ চার মাস অপেক্ষা পর শনিবার সকালে বুলডোজার নিয়ে আগরতলা পুর নিগমের টাস্ক ফোর্স পৌঁছালো রাজধানীর দক্ষিণ জয়পুর এলাকায়। বহু দশক ধরে হাওড়া নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ জয়পুর এলাকার কলোনিতে বসবাস করছে বহু পরিবার। তাদের মধ্যে কিছু পরিবার অন্যথায় স্থানান্তর হয়ে গেছে। বর্তমানে উনিশ পরিবার সেখানে মাথা গোজার ঠাঁই করে রেখেছিল। গত চার মাস আগে আগরতলা পুর নিগমের পক্ষ থেকে তাদের সরকারি জমি ছাড়ার জন্য নোটিশ দেয়। জানিয়ে দেওয়া হয় হাওড়া নদীর বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
গত চার মাসে ১৯ পরিবার মাথা গোজার জন্য অন্যথায় ঠাই না করে সাত রামনগর এলাকার বিধায়ক দীপক মজুমদার এবং স্থানীয় কাউন্সিলার সহ বিজেপি-র বুথ সভাপতি বাড়িতে ছোটাছুটি করেছেন। কিন্তু চার মাসে পুনর্বাসনের জন্য শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস পেয়ে গেছেন। বাস্তবে পুনর্বাসন জুটলো না তাদের ভাগ্যে। শনিবার সকালে ঘুম ভাঙার আগে টাস্ক ফোর্স বুলডোজার নিয়ে ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ায়। যা দেখে রীতিমতই দিশেহারা হয়ে পড়লো ১৯ পরিবার। মুখ বুজে এলাকার বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং বুথে সভাপতি উপর আস্থা রেখে ভিটেমাটি ছেড়ে দেন।
তারপর প্রশাসন তার নিয়ম মতো বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। খোলা আকাশের নিচে এসে বসে ১৯ পরিবারের প্রায় শতাধিক মানুষ। সংবাদ মাধ্যমকে তারা জানান, গত চার মাস আগে তারা নোটিশ পেয়েছিলেন জমি ছাড়ার জন্য। তারপর তারা এলাকার বিধায়ক, কাউন্সিলর সহ অন্যান্য নেতাদের কাছে গেছেন। তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পুনর্বাসন দেওয়া হবে। কিন্তু আশ্বাসের ঝপ মন্ত্র শুনে চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। শনিবার তাদের উচ্ছেদ করে দেয় নিগম কর্তৃপক্ষ। এখন মাথা গোজার মতো জায়গা নেই তাদের কাছে। বৃদ্ধ মা, বাবা এবং স্ত্রী, সন্তান নিয়ে কোথায় যাবে সেটা বুঝে উঠতে পারছে না। তারা জানান, উচ্ছেদ হওয়া পরিবার গুলোর মধ্যে রয়েছে ৬৫ থেকে ৬৭ জন ভোটার। তারা এখনো আশাবাদী তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার। আর যতদিন পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে না ততদিন তাদের খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে। এমনটাই জানিয়েছেন ইব্রাহিম মিয়া নামে এক যুবক।

