স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৯ আগস্ট : পাপিয়া সরকারের মৃত্যু নিয়ে সরকার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এই তদন্ত কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে খাম বন্ধ করে একটি রিপোর্ট জমা দেবে আইজিএম হাসপাতালের এম এস -এর কাছে। এই রিপোর্ট এম এস মারফত রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিবের কাছে পাঠানো হবে। তারপর স্বাস্থ্য সচিব এই খাম তুলে দেবেন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে। তারপর তদন্তে যা উঠে আসবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আইজিএম হাসপাতাল সূত্রে খবর। এরই মধ্যে শুক্রবার বটতলা মহাশ্মশান সংলগ্ন পাপিয়া সরকারের বাড়িতে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। কথা বলেন পাপিয়ার মায়ের সাথে।
চোখে জল নিয়ে ঘরে দরজায় বসে সরকারের উদ্দেশ্যে দাবি করেন, ” আমি অনেক কষ্ট করে মেয়েকে বড় করেছি। আমার একটাই রিকুয়েস্ট, কোন ডাক্তার, নার্স যাতে সরকারি হাসপাতালে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে না পারেন। এটাই আমার দাবি। যারা যারা আছে স্টাফ নার্স, তারা যাতে রোগী নিয়ে গেলে হেল্প করেন। কারণ তখন রোগীর বাড়ির লোকের কোন শক্তি থাকে না যে রোগীকে ধরে সীটে তুলবে। আর যদি হেল্প না করে তাহলে কেন নার্সরা বসে আছে হাসপাতালে? তাদের কি মোবাইল টিপার জন্য পয়সা দিয়ে রাখা হয়েছে? তারা যদি আমার মেয়ের চিকিৎসা না করতেন তাহলে বলে দিলে পারতো। ভিক্ষা করে আইএলএস হাসপাতালে নিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করাতাম।
কিন্তু তারা কোন কদর করেনি। তাই আমি চাই কোন চিকিৎসক বা নার্স যাতে মোবাইল নিয়ে হাসপাতালে যেতে না পারে। আমি শুধু এতটুকু চাই।” এদিকে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীকে কাছে পেয়ে পাপিয়ার পরিবার থেকে শুরু করে এলাকাবাসী দাবি জানান তারা সেদিন প্রত্যক্ষ করেছেন হাসপাতালে পাপিয়াকে নিয়ে যাওয়ার পর দুপুর বারোটা থেকে ফেলে রাখা হয়েছিল। বহুবার ডাক্তারকে ডাকা হয়। অথচ ডাক্তার আসেননি। ইন্টার্নশিপ করা চিকিৎসক পড়ুয়ারা এসে রোগী দেখেন। তারা বলেন রোগী ভালো আছে। কিছুক্ষণ পরে বলেন রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। সে অনুযায়ী রক্ত নিয়ে দীর্ঘক্ষণ পাপিয়াকে ফেলে রেখে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন হাসপাতালে নার্সরা। পাপিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বহু ডাকাডাকির পর কেউ আসে নি তাকে দেখতে। রক্তের রিপোর্ট আসতে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা সময় লাগবে। তারপর চিকিৎসা শুরু হবে বলে জানিয়ে দেয় পাপিয়ার পরিবারকে। এরই মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে পাপিয়া। এদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, রামকৃষ্ণ স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী পাপিয়া গত ২৭ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে হাসপাতাল নিয়ে যায়। তাদের সকলের অভিযোগ দীর্ঘক্ষন পাপিয়ার চিকিৎসা না করায় অবহেলার জন্য মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সাথে কথা বলে যা বোঝা গেছে চিকিৎসকরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অকালে জীবন নিভে গেছে পাপিয়ার। পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বিষয়টি অবশ্যই স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চ অধিকারিকদের কাছে জানানো হবে। এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যাতে আর কোন দিন পুনঃবৃত্তি না হয়। শুক্রবার বিকেলে পাপিয়া বাড়িতে যান শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা। ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরিবারের অভিযোগ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং নার্সরা। গোটা বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ। আরো বলেন, পাপিয়ার বাবার সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মেয়েকে হারিয়ে অত্যন্ত মর্মাহত। তারা কারোর সাথে কথা বলতে চাইছেন না। আর কেউ যাতে তাদের সাথে দেখা করতে না আসে তার জন্য আবেদন জানান শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন।

