Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যস্বেচ্ছাসেবক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, ডিপিএমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, ডিপিএমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ আগস্ট:  হুঁশ কবে ফিরবে? চাকমা ঘাটে লরির দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পরেও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করল না দুর্বল প্রশাসন। এবার তাদের দুর্নীতি প্রকাশিত হয়েছে বুধবার। এদিন অভিযোগের নিরিখে বিষয়টি সামনে আসে।অভিযোগ, সরকারি আইন অমান্য করে এবং বয়স সীমাকে উপেক্ষা করে মুখ চেনার ভিত্তিতে স্বেচ্ছা সেবকদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে-মেয়ে প্রশিক্ষণ বা নিয়োগে অংশ নিতে পারে না।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, নিয়মের তোয়াক্কা না করেই কিছু নাবালক-নাবালিকাকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তীর তেলিয়ামুড়ার সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক বিবেক ভট্টাচার্য ও সুমন দেবনাথের বিরুদ্ধে। তারা নিজেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে বয়সসীমা না থাকা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় বয়সসীমা পূর্ণ করেও অনেক ছেলে-মেয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা না থাকার কারণে প্রশিক্ষণ থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মহকুমায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কের জেরে ২৬ আগস্ট প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনেই ১৮ বছরের নিচে থাকা অংশগ্রহণকারীদের হঠাৎ করে বের করে দেওয়া হয়। তবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলবে ২৫ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক কার্যালয়ে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডি সিএম নিজ মুখে স্বীকার করেছেন কয়েকজন ছিল ১৪ বছরের মধ্যে। আগামী কয়েক মাস পর তাদের বয়স উত্তীর্ণ হয়ে যাবে।

তাদের ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের আগামী কয়েক মাস পর ১৮ বছর পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন তাদের পরবর্তী ব্যাচে নেওয়া হবে বলে জানান। তিনি আরো জানান প্রশিক্ষণের জন্য নাকি কোটা অনুযায়ী যুবক-যুবতীদের মধ্যে উৎসাহিত পাননি। এদিকে প্রশিক্ষক জানান বয়স যাচাই করেননি তিনি।স্থানীয় এক যুবক জানান, তিনি ১৮ বছরের উঠতে হলেও তাকে নেওয়া হয়নি এই প্রশিক্ষণে। তার অভিমত, যদি ১৮ বছরের নিচে যুবক-যুবতীরা অংশ নিতে পারে তাহলে কেন তিনি সুযোগ পাবেন না?  এখন প্রশ্ন উঠছে—যেখানে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর বয়স প্রমাণপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক, সেখানে কীভাবে ১৮ বছরের নিচে থাকা ছেলেমেয়েরা প্রশিক্ষণে যোগ দিতে পারল? প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই হয়নি, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্রাহ্য করা হয়েছে—এই নিয়েই উঠছে জোর সন্দেহ। অনেকের অভিমত এভাবে অপরিণত বয়সে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে বাস্তবে দুর্যোগের সময় প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। এর ফলেই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ সহায়তা দিতে গিয়ে ব্যর্থতার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সম্প্রতি চাকমাঘাটে লরি চালক মিহিরের মৃত্যুকেও অনেকে এই ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন। এখন দেখার বিষয়—সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন গোটা ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, নাকি দুর্নীতির অভিযোগ শেষ পর্যন্ত চাপা পড়েই যায়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য