Friday, May 31, 2024
বাড়িখেলা১৯ বছরের পথচলার ইতি টানছেন ভারতের কিংবদন্তি সুনিল ছেত্রি

১৯ বছরের পথচলার ইতি টানছেন ভারতের কিংবদন্তি সুনিল ছেত্রি

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ১৬ মে: ছেত্রির শেষ ম্যাচ। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় বৃহস্পতিবার অবসরের কথা জানান এই কিংবদন্তি।২১ বছর আগে এই শহরেই পেশাদার ফুটবলার হিসেবে ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ছেত্রি। দিল্লি শহরে কিছুদিন খেলার পর কলকাতার ক্লাব মোহন বাগানের হয়ে স্বীকৃত পর্যায়ের ফুটবলে তার যাত্রা শুরু। পারফরম্যান্স দিয়ে ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ আঙিনায় নজর কাড়তে সময় লাগেনি তার। ২০০৫ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকেই গোল করে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এরপর কেবলই এগিয়ে চলা।সেই পথচলায় নিজ দেশ তো বটেই, সাফ অঞ্চলের সবাইকে ছাড়িয়ে ক্রমেই নিজেকে তুলে নেন অন্য উচ্চতায়। ভারতের হয়ে এখনও পর্যন্ত ১৫০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাইচুং ভুটিয়া খেলেছেন ৮৮ ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল ৯৪টি। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলস্কোরার আই এম ভিজায়ানের গোল ৩২টি। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট ব্যবধান।এই পরিসংখ্যানই তাকে ঠাঁই করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিদের পাশে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলস্কোরার তিনি। তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১২৮), ইরানের আলি দাইয়ি (১০৮) ও লিওনেল মেসি (১০৬)।গোলের সেঞ্চুরির হাতছানি তার সামনে ছিল অনেক দিন ধরেই। সেটি আর পূরণ হচ্ছে না। বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে ছেত্রি জানালেন, মনের ভেতর থেকেই শেষের ডাক শুনছিলেন তিনি।

“গত ১৯ বছরের স্মৃতি ও অনুভূতি বলতে গেলে, দায়িত্বের চাপ ও দারুণ আনন্দের এক সমন্বয় ছিল। ব্যক্তিগতভাবে কখনোই ভাবিনি যে দেশের হয়ে এতগুলো ম্যাচ খেলেছি বা এই করেছি সেই করেছি, ভালো বা খারাপ করেছি। তবে এখন আমার এসব মনে হচ্ছে। গত এক-দেড়-দুই মাসে এসব ভাবনায় এনেছে, যা খুবই অদ্ভুত। এরকম একটা সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি বলেই হয়তো এসব ব্যাপার ভাবনায় আসছিল। পরের ম্যাচটিই আমার শেষ ম্যাচ।”দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারার গৌরব আর তাড়নাই এত বছর তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানালেন ছেত্রি। এই ৩৯ বছর বয়সে এসেও বিদায় বলাটা কতটা কঠিন ছিল, ফুটে উঠল তার কথায়।“এরপর কি আমার কষ্ট লাগবে? অবশ্যই। সামনের প্রতিটি দিনই কি আমার খারাপ লাগবে? হ্যাঁ। এই ভ্রমণ আমি মিস করব, ২০ দিন ট্রেনিংয়ের পরই সব শেষ, এরকম অনুভুতি হচ্ছে কি না? হ্যাঁ, হচ্ছে। আমার ভেতরে যে শিশুটি আছে, সে তো দেশের হয়ে খেলার সুযোগে কখনোই থামতে চায় না।”“সত্যিকার অর্থেই আমার বিচরণ ছিল স্বপ্নের জগতে এবং দেশের হয়ে খেলতে পারার ধারেকাছে আর কিছু নেই। তো আমার ভেতরের সেই শিশুটি লড়াই চালিয়ে গেছে এং ভবিষ্যতেও ভেতরে ভেতরে লড়াইটা করবে। তবে একজন বোধসম্পন্ন, পরিণত ফুটবলার হিসেবে, আমার ভেতরের মানুষটি অনুভব করেছেন, সময়টা শেষ। যদিও সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ ছিল না।”ক্লাব ফুটবলে মোহন বাগানের হয়ে ক্যারিয়ার শুরুর পর ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ অনেক ক্লাবে খেলেছেন। ২০১৬ সাল থেকে টানা খেলে আসছেন বেঙ্গালুরু এফসির হয়ে। এই ক্লাবের হয়েই নিজের সেরাটা দেখিয়েছেন তিনি। দেশের বাইরে ২০১০ সালে তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব কানসাস সিটি উইজার্ডে। ২০১২ সালে সুযোগ পান পর্তুগালের ক্লাব স্পোর্তিং সিপির রিজার্ভ দলে। ক্লাব ফুটবলে তিনি অবশ্য খেলে যাবেন এখনও।

জাতীয় দলের জার্সিতেই তিনি নিজেকে চিনিয়েছেন সবচেয়ে ভালো করে। তিনটি নেহেরু কাপ (২০০৭, ২০০৯, ২০১২) ও তিনটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ (২০০১১, ২০১৫ ও ২০২১) জয়ে তার ছিল বড় অবদান। ২০০৮ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে ভারতের জয়েও তিনি ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরারের রেকর্ড গড়ে ফেলেন তিনি সেই ২০১১ সালেই। এরপর ছিল কেবল এগিয়ে যাওয়ার পালা। সেই পথই শেষ হচ্ছে এবার।ছেত্রির বিদায়ী ম্যাচটি ভারতের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পরের ধাপে যাওয়ার জন্য জয়টা জরুরি তাদের জন্য। চার ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে আপাতত তারা আছে দুইয়ে।এই ম্যাচকে ঘিরে তাই প্রচণ্ড চাপে আছে ভারতীয় দল। তবে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর ছেত্রির এখন নির্ভার লাগছে।“তৃতীয় রাউন্ডে যেতে হলে এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট দরকার আমাদের। খুবই গুরুরত্বপূর্ণ ম্যাচ আমাদের জন্য। তবে খুবই অদ্ভুতভাবে, আমি কোনো চাপ অনুভব করছি না। জানি, জাতীয় দলের সঙ্গে এই ১৫-২০ দিনের অনুশীলন ও কুয়েতের বিপক্ষে ম্যাচটিই আমার শেষ। আমি নিশ্চিত যে, এখন স্রেফ উপভোগ করব এবং নিজের সবটুকু উজাড় করে দেব।”

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য