Friday, March 1, 2024
বাড়িখেলা‘বেকেনবাউয়ারের অর্জন ও সাফল্য খোদাই হয়ে থাকবে ইতিহাসে’

‘বেকেনবাউয়ারের অর্জন ও সাফল্য খোদাই হয়ে থাকবে ইতিহাসে’

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ৯ ডিসেম্বর: সর্বকালের সেরা ফুটবলার ও ম্যানেজারদের একজন বেকেনবাউয়ার ৭৮ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান মঙ্গলবার। ফুটবলার ও কোচ, দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপজয়ী ইতিহাসের তিন ফুটবলারের একজন তিনি, অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপজয়ী কেবল দুইজনের একজন। একাধিক ব্যালন দ’র জয়ের কীর্তি তিনি ছাড়া নেই ইতিহাসের আর কোনো ডিফেন্ডারের। টানা তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ (এখনকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জয়ী প্রথম অধিনায়ক তিনিই। এরকম আরও অসংখ্য কীর্তি, অর্জন ও রেকর্ডে সমৃদ্ধ তার ক্যারিয়ার। ফুটবলার ও কোচ হিসেবে আলো ছড়ানো ছাড়াও তিনি আলাদা করে ছাপ রেখেছেন প্রশাসক হিসেবে ও সংবাদমাধ্যমে ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসেবেও।  জগতের নিয়ম মেনেই বেকেনবাউয়ারকে চলে যেতে হয়েছে। তবে তার কীর্তি যে চিরস্মরণীয় হয়ে রইবে, তা তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণাও করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। 

“জার্মান ও বিশ্ব ফুটবলের একজন কিংবদন্তি, ফ্রানৎস বেকেনবাউয়ায়ের অর্জন ও সাফল্য খোদাই হয়ে থাকবে ইতিহাসে। তুমুল জনপ্রিয়তার পরও ‘ডের কাইজার’ সবসময়ই বিনয়ী ও সাদাসিধে ছিলেন…।” “উয়েফার কার্যনিনর্বাহী কমিটির সভার দিনগুলিতে তিনি ছিলেন আমার দারুণ এক প্রতিবেশী, তার ফুটবল বোধের কত কিছু তিনি স্বেচ্ছায় বলতেন! সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ, ফুটবলের আপনজন, একজন চ্যাম্পিয়নস ও সত্যিকারের কিংবদন্তি, প্রিয় ফ্রানৎসকে কখনোই ভোলা যাবে না।” ফুটবলে বেকেনবাউয়ারের প্রভাবের পাশাপাশি মানুষ হিসেবে তার উল্লেখযোগ্য দিকটি তুলে ধরেছেন আরেক জার্মান গ্রেট ফুটবলার  ও বায়ার্ন মিউনিখের দীর্ঘদিনের প্রধান নির্বাহী কার্ল-হাইঞ্জ হুমেনিগে। “আমি গভীরভাবে মর্মাহত। জার্মান ফুটবলের ইতিহাস নতুন করে লিখেছিলেন ফ্রানৎস বেকেনবাউয়ার এবং স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন। বায়ার্ন মিউনিখে আমার অধিনায়ক ছিলেন তিনি, জাতীয় দলে ছিলেন আমার কোচ, বায়ার্নে ছিলেন আমদের প্রেসিডেন্ট এবং সব ভূমিকাতেই তিনি শুধু সফলই ছিলেন না, ছিলেন অনন্য।” “মানুষ হিসেবে তিনি এমন ছিলেন যে, সবাইকে তিনি মুগ্ধ করতেন সম্মান দিয়ে, কারণ তার কাছে সবাই ছিলেন সমান। জার্মান ফুটবল হারাল তাদের ইতিহাসের সেরা ব্যক্তিত্বকে। যন্ত্রণা পাওয়ার চেয়েও আমরা তাকে মিস করব প্রবলভাবে। সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা, প্রিয় ফ্রানৎস!” 

উফেয়া সভাপতি আলেকসান্দের চেফেরিনের মতে, ফুটবল খেলাটাকেই নতুন ধাপে পৌঁছে দিয়েছিলেন বেকেনবাউয়ার। “কিংবদন্তি কাইজারকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্ব শোকে কাতর। সেই সময়ে ফুটবল যেভাবে খেলা হতো, তিনি তা নতুন করে সাজিয়েছিলেন তার অতুলনীয় বৈচিত্র, রক্ষণ থেকে মাঝমাঠের ভেতর আভিজাত্যপূর্ণ বিচরণ, নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ভাবনী ধরন দিয়ে।” “তার নেতৃত্বগুণ উজ্জ্বল হয়ে ফুটে ওঠে এখানে যে, তার নেতৃত্বেই জাতীয় দল ও বায়ার্ন মিউনিখ তাদের ইতিহাসের সেরা সময় কাটিয়েছে এবং পরে তিনি কোচিং ক্যারিয়ারেও আলো ছড়িয়েছেন। ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে তার প্রভাব সংশয়াতীত। সত্যিকারের একজন কিংবদন্তিকে বিদায়।” মারিও জাগালোর মৃত্যুর কয়েকদিন পরই বিদায় নিলেন বেকেনবাউয়ার। ফুটবলার ও কোচ, দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপজয়ী তিন কীর্তিমানের মধ্যে জীবিত রইলেন কেবল দিদিয়ে দেশম। তার কথায়ও মিশে থাকল সেই দুঃখবোধ। 

“ফ্রানৎস বেকেনবাউয়ারের মৃত্যুর খবর জেনে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। মারিও জাগালোর চলে যাওয়ার কদিন পরই এই খবর এলো। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তিতে তাদের দুজনের সঙ্গে ২০১৮ সালে যোগ দিতে পারা ছিল আমার জন্য বড় এক সম্মান। আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই দুই মহীরূহের সঙ্গে এক টেবিলে বসার আমন্ত্রণ পেয়ে যেমন আমার আনন্দ ছিল বাঁধভাঙা, আজকে আমার শোকও তেমনই…।” “ফ্রানৎস বেকেনবাউয়ার ছিলেন তুমুল সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব, সেরাদের সর্বোচ্চ মানটাকেই ধারণ করতেন। এই দুঃখের ও যন্ত্রণাময় সময়ে তার পরিবার ও তার বন্ধুরা, এবং আমার মতো যারা তাকে শ্রদ্ধা করতেন, সবার প্রতি সমবেদনা।” বেকেনবাউয়ারের আবেদন যে শুধু ফুটবলের জগতেই সীমাবদ্ধ নয়, সেটাই বুঝিয়ে দিলেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি টমাস বাখ। “ফ্রানৎস বেকেনবাউয়ারের মৃত্যুর খবর জেনে গভীর শোক প্রকাশ করছি। ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে তিনি ছিলেন বিশ্ব ক্রীড়ার একজন কিংবদন্তি। আমার জন্য, তিনি ছিলেন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একজন ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু, এমন একজন, যার ওপর সবসময় আস্থা রাখা যায়।” 

বেকেনবাউয়ারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ক্লাবগুলিও। সামাজিক মাধ্যমে বেকেনবাউয়ারের সঙ্গে ইংলিশ কিংবদন্তি ববি চার্লটনের একটি ছবি পোস্ট করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড লিখেছে, “মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বী, মাঠের বাইরে সবসময়ের শ্রদ্ধাভাজন। এখন একসঙ্গেই দুজন বিশ্রামে। সত্যিকারের গ্রেট ফ্রানৎস বেকেনবাউয়ারকে হারানোয় আমরা শোকাহত ও আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি বায়ার্ন মিউনিখে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিদের।” বেকেনবাউয়ারের পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ, “ইউরোপিয়ান ও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় কিংবদন্তিদের একজন ফ্রানৎস বেকেনবাউয়ারের চলে যাওয়ায় রেয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব, ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড পরিচালকরা গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার, সতীর্থ, তার ক্লাব ও কাছের সবাইকে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানাচ্ছে রেয়াল মাদ্রিদ।” শোকাহত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বার্সেলোনাও, “বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি ফ্রানৎস বেকেনবাউয়ার ৭৮ বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ায় সমবেদনা জানাচ্ছে এফসি বার্সেলোনা। শান্তিতে ঘুমান।” ইন্টার মিলান বিবৃতিতে বলেছে, বেকেনবাউয়ারের আবেদন রয়ে যাবে চিরদিন। “ফেয়ার প্লে ও আভিজাত্যকে ধারণ করতেন তিনি এবং সবসময় বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি হয়েই থাকবেন। ফ্রানৎস বেকেনবাউয়ার চলে যাওয়ায় এই ক্লাব ও নেরাজ্জুরিদের গোটা জগৎ শোকাহত।”

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য