স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বর ।। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচে ক্রিকেটীয় উত্তেজনার রসদ খুব বেশি আর দেখা যায় না বেশ কবছর ধরেই। সামগ্রিক ফলাফলে যেমন, তেমনি পরিসংখ্যনের নানা গভীরেও দাপট ভারতের। এবারের এশিয়া কাপেও ফুটে উঠল তা। গ্রুপ পর্বের পর সুপার ফোর পর্বের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সামনে পাত্তা পেল না পাকিস্তান। দুবাইয়ে রোববার এই ম্যাচে ৬ উইকেটের জয়ের পথে বেশ কিছু রেকর্ডও গড়েছে ভারত।
রান তাড়ার রাজা
রান তাড়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত এগিয়ে এখন ৮-০ ব্যবধানে। কোনো দলের বিপক্ষে রান তাড়ায় একবারও না হেরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করল ভারত। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে এভাবে পরে ব্যাট করে ৮ ম্যাচ জিতেছে মালেয়েশিয়া, হারেনি একটিও।
ভারত ১২ পাকিস্তান ৩
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের জয় হয়ে গেল ১২টি, পাকিস্তানের স্রেফ ৩টি। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, কতটা একতরফা লড়াই এখন এটি।
ওয়ানডেতে সামগ্রিক ফলাফলে এখনও এগিয়ে পাকিস্তান। তবে গত ২০ বছরে এখানেও আছে পরিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ। ২০০৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের জয় ছিল ৬২টি, ভারতের ৩৫টি। গত ২০ বছরে ভারত জিতেছে ২৩টি, পাকিস্তান ১১টি। দুই দলের সবশেষ টানা ছয় ওয়ানডেতে জিতেছে ভারতই।
পাকিস্তানের অর্জন টপকে ভারতের রেকর্ড
দুবাইয়ে রোববার ২০ ওভারে ১৭১ রান তোলে পাকিস্তান। এই সংস্করণে ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে তাদের সর্বোচ্চ এটি। সেই রান তাড়ায় জিতে ভারতও ছড়িয়ে যায় নিজেদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে তাদের সবচেয়ে বেশি রান তাড়ার নজির এটি।
আগের সর্বোচ্চ ১৬০ রান তাড়ায় জয় ছিল ২০২২ বিশ্বকাপে মেলবোর্নে সেই রুদ্ধশ্বাস জয়, যেখানে ভিরাট কোহলি খেলেছিলেন ৮৩ রানের স্মরণীয় ইনিংসটি।
মেন্টরকে ছাড়িয়ে আভিশেক
২৪ বলে ফিফটি করেছেন আভিশেক শার্মা, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের দ্রুততম অর্ধশতক। বিধ্বংসী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এখানে ছাড়িয়ে গেলেন তার মেন্টরকে। ২৯ বলে ফিফটির আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ইউভরাজ সিং। ২০১২ সালে ইনিংসটি খেলেছিলেন সাবেক আগ্রাসী ব্যাটসম্যান।
গিল–আভিশেকের রেকর্ড বন্ধন
উদ্বোধনী জুটিতে ১০৫ রান তুলেছেন শুবমান গিল ও আভিশেক শার্মা। টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সেরা উদ্বোধনী জুটি এটি। আগের সেরা ৭৭ রানে জুটি ছিল ২০১২ সালে আজিঙ্কা রাহানে ও এখনকার কোচ গৌতাম গাম্ভিরের। সব জুটি মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে শতরানের জুটি আর একটিই আছে ভারতের। ২০২২ বিশ্বকাপে মেলবোর্নের সেই ম্যাচে ভিরাট কোহলি ও হার্দিক পান্ডিয়ার ১১৩।
গাম্ভিরের ১৮ বছর পর আভিশেক
আভিশেক শার্মার ৭৪ রানের ইনিংসটির আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ওপেনারদের একমাত্র ফিফটি করেছিলেন গৌতাম গাম্ভির। ২০০৭ বিশ্বকাপে ৭৫ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন ভারতের একসময়ের কোচ।
এশিয়া কাপ, ভারত, পাকিস্তান।
এই ম্যাচে ছয় ওভারে ৬৯ রান তুলেছে ভারত। পা্ওয়ার প্লেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে যা তাদের সর্বোচ্চ।
আগের সর্বোচ্চ ১ উইকেটে ৬২ ছিল ২০২২ এশিয়া কাপে।
ভারতের রেকর্ডের ম্যাচে অবশ্য আগে পাকিস্তান ছাড়িয়ে গেছে নিজেদের। পাওয়ার প্লেতে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান তুলেছে তারা এ দিনই। আগে ছিল ৫২।
অন্য বুমরাহ
এমনিতে যিনি প্রায় নিখুঁত, সেই জাসপ্রিত বুমরাহ এ দিন ছিলেন প্রায় এলোমেলো। চার ওভারে ৪৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন ভারতের বোলিং আক্রমণের মূল অস্ত্র। এর চেয়ে বেশি রান গুনেছেন তিনি স্রেফ আর দুইবার। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার ওভরে দিয়েছিলেন ৪৭, ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার ওভারে ৫০।
ক্যাচ ছাড়ার মহড়া
ভারতের দারুণ জয়ে একটি বড় অতৃপ্তির জায়গা ক্যাচ হাতছাড়া করা। এ দিন ৫টি ক্যাচ ছেড়েছে তারা, ২০১৯ সালের পর যা তাদের এক ম্যাচের সর্বোচ্চ।
রউফের তৃপ্তি
লড়াইয়ের ভেতর লড়াইগুলোতে দারুণ জয়ের ধারা ধরে রেখেছেন হারিস রউফ। এই নিয়ে তিনবারের দেখায় প্রতিবারই সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে আউট করলেন পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার। রউফের ১১ বলে স্রেফ ১০ রান কর পেরেছেন টি-টোয়েন্টির সেরা ব্যাটারদের একজন।

