স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১ সেপ্টেম্বর।। আগের ম্যাচে ৭০ রানে আউট হয়েছিলেন ইমাম-উল-হাক। তার এখনকার ফর্মের জন্য অস্বাভাবিকই বটে। সেঞ্চুরিকেই যে স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেছেন তিনি! সেমি-ফাইনালে সেই স্বাভাবিকতায় ফিরলেন ইয়র্কশায়ারের পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। উপহার দিলেন আরও একটি সেঞ্চুরি।
তবে আট ম্যাচে চার সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানকে এবার থামতেই হচ্ছে। তার দলই যে থেমে গেছে! ইমামের শতরানের পরও ইংল্যান্ডের ওয়ানডে কাপের সেমি-ফাইনালে হেরে গেছে ইয়র্কশায়ার। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মহল রোববার বুঁদ ছিল লর্ডসে দা হান্ড্রেড টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিয়ে। তবে একই দিনে ৫০ ওভারের ক্রিকেট আসর ওয়ানডে কাপে ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে হ্যাম্পশায়ার। স্কারবরায় অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার লিয়াম ডসনের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ৫০ ওভারে ৩০৪ রান তোলে হ্যাম্পশায়ার। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দলটি এক পর্যায়ে ছিল চরম বিপদে। ২০তম ওভারে তাদের রান ছিল ৪ উইকেটে ৭৮। কিন্তু ডসন পাঁচে নেমে ১৩ চার ও ৭ ছক্কায় খেলেন ১১৬ বলে ১৪২ রানের ইনিংস। ৪০ বলে অপরাজিত ৬১ করেন স্কট কুরি। রান তাড়ায় ইমামের সৌজন্যে ইয়র্কশায়ার পথে ছিল দারুণভাবেই। এক পর্যায়ে তাদের রান ছিল ১ উইকেটে ১৪৬। কিন্তু এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে তারা। ১৫ চারে ৯৭ বলে ১০৫ রান করে রান আউট হয়ে যান ইমাম। পরে আর কোনো ব্যাটসম্যান মেটাতে পারেননি সময়ে দাবি। বৃষ্টির কারণে ইয়র্কশায়ারের লক্ষ্য ছিল ৪১ ওভারে ২৫৪। ৮ উইকেট হারিয়ে তারা করতে পারে ২৩৫। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে হ্যাম্পশায়ার জিতে যায় ১৮ রানে। ইয়র্কশায়ার বাদ পড়ে গেলেও ইমাম ছাপ রেখে গেলেন প্রবলভাবেই। পাকিস্তানের ওয়ানডে দলে জায়গা হারানো ব্যাটসম্যান এই টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন ৫৫ রানের ইনিংস দিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে উপহার দেন ১৩০ বলে ১৫৯ রানের ইনিংস, যা তার ক্যারিয়ার সেরা। টানা দ্বিতীয় শতরান করে পরের ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ১১৭। চতুর্থ ম্যাচে ১৩০ রান তাড়ায় অপরাজিত থাকেন ৫৪ রান করে। পরের ম্যাচে আউট হন ২২ রানে, টুর্নামেন্টে যা তার একমাত্র ব্যর্থতা। সে পুষিয়ে দিয়ে পরের ম্যাচে আবার করেন ১০৬। সপ্তম ম্যাচে ফেরেন ৭০ রানে। এবার সেমি-ফাইনালে সেঞ্চুরি দিয়ে শেষ করলেন আসর। আট ম্যাচে চার সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে তার রান ৬৮৮। ব্যাটিং গড় ৯৮.২৮, স্ট্রাইক রেট ৯৭.৪৫। ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই অবশ্য এই সময়টায় ব্যস্ত ছিলেন দা হান্ড্রেড নিয়েই। ওয়ানডে কাপের মান তাই কিছুটা কমই ছিল তুলনামূলকভাবে। তবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে গিয়ে এতটা ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও উপেক্ষার মতো নয়। পাকিস্তানের নির্বাচকরাও সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে তাকে দেশে ডেকে পাঠিয়েছেন জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য। ইয়র্কশায়ারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার কথা থাকলেও এখন তাকে ফিরতে হচ্ছে দেশে। ওয়ানডে কাপের ফাইনালে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর হ্যাম্পশায়ার খেলবে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে।

