Wednesday, February 4, 2026
বাড়িখেলাবিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারানোর কথা মনে করিয়ে দিলেন নেদারল্যান্ডস কোচ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারানোর কথা মনে করিয়ে দিলেন নেদারল্যান্ডস কোচ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৩০ আগস্ট।। “গত বিশ্বকাপে আমরা ওদেরকে হারিয়েছি। আবার একই গ্রুপে পড়লে (বিশ্বকাপে) আবারও চেষ্টা করব হারাতে”, একদম জড়তাহীন ও অকপট বক্তব্য। কণ্ঠে বেশ জোর নিয়েই কথাটি বললেন রায়ান কুক। মাঠে নেদারল্যান্ডসের ভয়ডরহীন ক্রিকেটের একটি কারণও বোঝা গেল। যে দলের কোচ এতটা আত্মবিশ্বাসী, দলের ওপর যার ভরসা প্রবল, ক্রিকেটারদের মধ্যে সেই বিশ্বাস তো ছড়িয়ে যাবেই। প্রথম পছন্দের ক্রিকেটারদের মধ্যে বেশ কজন নেই নেদারল্যান্ডসের এই সফরে। বাস ডে লেডে, রুলফ ফন ডার মেরওয়া, মাইকেল লেভিট, ফ্রেড ক্লাসেন, সম্ভাব্য সেরা একাদশের অন্তত চারজন নেই। তবে আছে বুক ভরা সাহস আর হৃদয়জুড়ে তাড়না। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগের দিন সেই বার্তাই ছিলেন কোচ কুক। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই কুক পরিচিত এক নাম। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্যাচ ছাড়ার মহড়ার পর তার সঙ্গে চুক্তি আর নবায়ন করেনি বিসিবি। পরে ডাচদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পথ ধরে ভারপ্রাপ্ত কোচ থেকে মূল কোচও হয়ে যান।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের উপস্থিতি এখন নিয়মিতই। তারা স্রেফ খেলছেই না, নজরকাড়া পারফরম্যান্সও দেখাচ্ছে। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাথমিক পর্বে নামিবিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারানোর পর সুপার টুয়েলভ পর্বে চমকে দেয় জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পর হারিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে সেটিই মনে করিয়ে দিলেন কোচ কুক। “টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে কোনো দলই নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে হারাতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা (বাংলাদেশ) ভালো খেলছে। তবে অন্যান্য সময় আবার দেখিয়েছে যে তারা ভুল করতে পারে। ভালো খেলতে পারি, এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা এখানে এসেছি। আমরা জানি, বাংলাদেশ ভালো ঘরানার কিছু খেলবে এবং অবশ্যই দারুণ কিছু ক্রিকেটার তাদের আছে। ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন। আমাদের জন্য এটা হবে ভীষণ চ্যালেঞ্জের।” “তবে জয়ের চেষ্টা না করতে পারলে আমরা এখানে আসতাম না। গত বিশ্বকাপে আমরা ওদেরকে হারিয়েছি। আবার একই গ্রুপে পড়লে (বিশ্বকাপে) আবারও চেষ্টা করব ওদেরকে হারাতে। আমাদের সামনে যা আছে, সেসবকে আলিঙ্গন করে নিতে হবে আমাদের এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তা পারব।”পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে নেদার‌ল্যান্ডস যে নিজেদের আলাদা করে ফুটিয়ে তুলেছে, সেটিও গর্বভরেই বললেন কোচ।

“আমরা বিশ্বাস করি, ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে যে কোনো দলকে আমরা হারাতে পারি। আমরা দেখিয়েছি যে আমরা তা পারি। এবারও বিশ্বাস আছে। কিছু ক্রিকেটারকে এগিয়ে আসতে হবে এবং পারফর্ম করতে হবে অবশ্যই। তবে ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে, শুধু এখন নয়, গত তিন বছর ধরেই। সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে আমরা ক্রমেই উন্নতির পথে হাঁটছি। অনেকবারই বিশ্বকাপে খেলেছি। এবার টানা চতুর্থবার হচ্ছে (ষষ্ঠবার)। এই দলগুলির সঙ্গে খেলতে ও তাদেরকে হারাতে যা করা প্রয়োজন, সেসবের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি আমরা।” সাফল্যের পথটা সহজ নয় কোনো দলের জন্যই। তবে কুকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটীয় বাস্তবতা। সেখানে জাতীয় দলের প্রায় সব ক্রিকেটারকেই জীবন ধারণের জন্য অন্য কোনো পেশায় কাজ করতে হয়। অর্থের ঘাটতির পাশাপাশি ক্রিকেট মাঠ ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি তো আছেই। সেই দলকে অভাবনীয় সাফল্যে রাঙানোর পেছনে গল্প শোনালেন কোচ কুক।

“যে দলীয় সংস্কৃতি আমরা গড়ে তুলতে চেয়েছি, সেটির জন্য প্রবল তাড়না জরুরি ছিল আমাদের। সেটি সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই… তারা কে কেমন, কোত্থেকে উঠে এসেছে… আমাদের দলটা অনেক বৈচিত্রময়… একটি লক্ষ্যের পেছনে তাদেরকে একতাবদ্ধ করা জরুরি ছিল। দলের ভেতরে এখন সংহতি অবিশ্বাস্য রকমের। দলে জায়গার জন্য লড়াই করে সবাই, দেশের জন্য লড়াই করে। সব দলই এরকম চায়, কিন্তু পায় কমই। দল সফল হওয়ার পেছনে সেটি বড় কারণ।” আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচির বাইরে এই সিরিজটি আয়োজন করা হচ্ছে। প্রস্তুতির সময় খুব একটা মেলেনি হয়নি ডাচদের। সিলেটে গিয়েও প্রথম দিনের অনুশীলন ভেস্তে গেছে বৃষ্টিতে। তাই স্রেফ এক দিনের অনুশীলনে সিরিজটি খেলতে হবে তাদেরকে। ইউরোপ থেকে এসে এই বিরুদ্ধ কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ জিততেও আত্মবিশ্বাসী কুক। তার দলের বড় শক্তির জায়গা দেখেন তিনি এখানেই। “কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই দলটি গর্ব খুঁজে নেয়। ছেলেদের অনেকেই গত সপ্তাহান্তেও ম্যাটে খেলছিল, অ্যাস্ট্রোটার্ফে খেলছিল। কখনও কখনও তারা ফুটবল মাঠে অ্যাস্ট্রোটার্ফে খেলে থাকে। মাঝমধ্যে টার্ফ উইকেটেও খেলার সুযোগ মেলে!” “খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনেক পথ বের করতে হয় আমাদের। সেখানে এই ধরনের (সিলেটের মতো) ভেন্যুগুলোতে যখন আমরা আসি, সেটা গত বছর বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে হোক বা ২০২২ বিশ্বকাপে জিলংয়ে (অস্ট্রেলিয়ায়)..সব জায়গায় আমরা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারি। কারণ, আমরা যেখান থেকে এসেছি, সেখানেও এরকম নানারকম কন্ডিশনে খেলতে হয়।”

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য