স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ১২ অগস্ট : বরাত জোরে প্রাণে বাঁচলেন কে সি বেণুগোপাল-সহ দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকজন সাংসদ। সোমবার ইন্ডিয়া জোটের ডাকে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও অভিযানে যোগ দিতে তিরুবনন্তপুরম থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে রওনা দেন তাঁরা। রবিবার রাতেই দিল্লি আসার কথা ছিল তাঁদের। বিমানটি আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। বিমানটি চেন্নাই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে গেলে দেখা যায় রানওয়েতে আরেকটি বিমান দাঁড়িয়ে রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়েই বিমানটি দু’ঘণ্টা আকাশে চক্কর খেতে থাকে। পরে রাত ১০টা নাগাদ চেন্নাই বিমানবন্দরে নামে বিমানটি।
আশঙ্কার অপর নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। তিরুবনন্তপুরম থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়া উড়ানে বড়সড় বিপত্তি দেখা গেল। ওই বিমানে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল-সহ আরও একাধিক সাংসদ। বিপদ এড়িয়ে বেণুগোপাল বলছেন, বরাতজোরে বেঁচে গিয়েছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের কাছে তাঁর বার্তা, যাত্রীসুরক্ষার বিষয়টি ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিলে চলবে না। জানা গিয়েছে, রবিবার রাত আটটা নাগাদ তিরুবনন্তপুরম থেকে বিমানটি ছাড়ার কথা ছিল। বেশ কিছুক্ষণ পরে আকাশে ওড়ে এআই ২২৪৫৫ বিমান। টেকঅফের খানিকক্ষণ পরেই বিমানটি সমস্যায় পড়ে। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর পাইলট সিদ্ধান্ত নেন বিমানটি চেন্নাই বিমানবন্দরে নামিয়ে দেওয়া হবে। চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে সিগন্যাল পেয়ে পাইলট যখন বিমান ল্যান্ড করাতে যাবেন, তখন তিনি দেখতে পান ওই রানওয়েতে ইতিমধ্যেই দাঁড়িয়ে রয়েছে আরেকটি বিমান। একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে পাইলট কোনওমতে ল্যান্ডিংয়ের প্রক্রিয়া থামিয়ে ফের আকাশে উড়ে যান। যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়েই প্রায় দু’ঘণ্টা আকাশে চক্কর কাটে বিমানটি। অবশেষে সাড়ে দশটার পর রানওয়ে খালি হতে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ান ল্যান্ড করে চেন্নাইতে।
গোটা ঘটনাটি নিজের সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন বেণুগোপাল। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘আজ ভাগ্যের জোরে আর পাইলটের দক্ষতায় বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি তো ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিলে চলে না। তাই আমি অসামরিক উড়ান পরিবহণ মন্ত্রক এবং ডিজিসিএর কাছে আবেদন জানাই, এহেন ঘটনা এড়াতে তাঁরা যেন সব রকম পদক্ষেপ করেন।” বেণুগোপালের পোস্টের জবাবে এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়, ‘আমাদের পাইলটরা এহেন সমস্যা সামলে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট দক্ষ। খারাপ আবহাওয়ার কারণেই বিমানে সমস্যা হয়েছিল।” প্রশ্ন, রানওয়েতে বিমান দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও কেন সেখানে উড়ানের জরুরি অবতরণের অনুমতি দেওয়া হল? গোটা ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক বা ডিজিসিএর তরফে কিছুই বলা হয়নি।

