স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ২৩ এপ্রিল : পহেলগাঁওয়ের সেই ভয়ংকর দিনটার একবছর পূর্ণ হল বৃহস্পতিবার। ২০২৫ সালের এই দিনে পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা পীর পঞ্জল দিয়েই প্রবেশ করেছিল পাক জঙ্গিরা। ঝরে গিয়েছিল ২৬টি তাজা প্রাণ। আজ সেখানে ভারতীয় সেনার কড়া প্রহরা। ঘড়ি ধরে নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। কিন্তু এরপরও পাক জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে এই পথ দিয়েই। এমনই দাবি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের। কিন্তু কীভাবে এই পথ দিয়ে এখনও জঙ্গিরা প্রবেশ করছে? এই প্রশ্ন ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, হিমাচল প্রদেশ থেকে জম্মু ও কাশ্মীর হয়ে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পর্বতশ্রেণি। যেহেতু পাকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত তাই এই পথ যে জঙ্গিরা ব্যবহার করতে চাইবে সেটাই স্বাভাবিক। নতুন সহস্রাব্দের আগে এখানে কোনও কাঁটাতারের বেড়া ছিল না। তাই অবাধে চলত অনুপ্রবেশ। এই পথ দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে লাগাতার ঢুকে পড়ত পাক জঙ্গিরা। পাক সেনার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওই সন্ত্রাসীরা পীর পঞ্জলের দুর্গম পথকেই বেছে নিত। অথচ আজ সেখানে নিয়মিত নজরদারি চালায়। তবুও জঙ্গিরা বেছে নিচ্ছে এই পথ! কীভাবে? অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সন্দীপ সেন বলছেন, ”যতদিন এখানে কাঁটাতারের বেড়া ছিল না, ইচ্ছেমতো প্রবেশ করত জঙ্গিরা।” কিন্তু এখন তো বেড়া রয়েছে, তাহলে?
বলে রাখা ভালো, এই অঞ্চলে পাইন, দেবদারুর মতো অসংখ্য গাছ রয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে এক নিবিড় চাঁদোয়ার সৃষ্টি করেছে এই গাছ। এর ফলে ড্রোনগুলির পক্ষে সবসময় সব অঞ্চলে নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া এই অঞ্চলে উন্মুক্ত ও পাথুরে প্রান্তরও রয়েছে। রয়েছে এমন সব এলাকা যা প্রায় সারা বছরই বরফে ঢাকা থাকে। আর এই সব পথই ‘টার্গেট’ করছে জঙ্গিরা।
অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সেন জানাচ্ছেন, মূলত শীতের সময়ই বেছে নেয় সন্ত্রাসবাদীরা। যখন ভারী তুষারপাতের ফলে সেখানকার ভূ-পরিস্থিতি বদলে যায়। সেই সময় ১০ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত তুষার জমে যায়। বেড়াও চাপা পড়ে যায়। এর ফলে সীমান্তের কিছু কিছু অংশ সাময়িক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে তাঁর মতে, এমতাবস্থাতেও অনুপ্রবেশ সংখ্যায় নগণ্যই হয়। সেনের কথায়, “বছরে বড়জোর তিন বা চারটি অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তাও আবার চারজনের কম সদস্যবিশিষ্ট ছোট ছোট জঙ্গি দলের মাধ্যমেই। তবে হ্যাঁ, অনুপ্রবেশ আজও হচ্ছে। আর তা শীতকালে প্রতিহত করা বেশ কঠিন।”

