স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ৩০ অক্টোবর : মাসদুয়েক আগে বিধান পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার মন্ত্রী হতে চলেছেন মহম্মদ আজহারউদ্দিন। সূত্রের খবর, কংগ্রেস হাইকম্যান্ড ইতিমধ্যেই আজহারকে ক্যাবিনেটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। মূলত জুবিলি হিলসের উপনির্বাচনকে মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রেবন্ত রেড্ডির সরকার।
গত আগস্ট মাসে কংগ্রেসশাসিত তেলেঙ্গানার বিধান পরিষদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আজহার এবং অধ্যাপক এম কোদানদারামকে। যদিও এর আগে কোদানদারামের মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে এবার নতুন করে বিধান পরিষদে দু’জন সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই অন্যতম আজহার। এর আগে অবশ্য তিনি লোকসভার সাংসদ হয়েছেন কংগ্রেসের টিকিটে।
বিধান পরিষদে মনোনয়ন পাওয়ার পরেই শোনা গিয়েছিল, তেলেঙ্গানার ক্যাবিনেটেও জায়গা পেতে পারেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। এবার সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়তে চলেছে বলে তেলেঙ্গানার রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর। কংগ্রেসের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি ইতিমধ্যেই আজহারকে ক্যাবিনেটে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। তবে এখনও রাজ্যপালের সম্মতি মেলেনি। সব ঠিক থাকলে শুক্রবারই তেলেঙ্গানার মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন আজহার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে আজহারকে মন্ত্রী করে দেওয়াটা কংগ্রেসের মাস্টারস্ট্রোক। প্রথমত, তেলেঙ্গানার ক্যাবিনেটে কংগ্রেসের একজন মুসলিম মুখের প্রয়োজন ছিল। আজহার একদিকে যেমন মুসলিমদের প্রতিনিধি, তেমনই গ্রেটার হায়দরাবাদেরও। বর্তমানে ক্যাবিনেটে গ্রেটার হায়দরাবাদের কোনও প্রতিনিধি নেই। সেই অভাব পূরণ করবেন আজহার। অন্যদিকে, সামনেই জুবিলি হিলস কেন্দ্রের উপনির্বাচন। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছিলেন আজহার। কিন্তু তাঁর মুখকে হাতিয়ার করেই নির্বাচনে ভোট টানতে পারে কংগ্রেস।
ইতিমধ্যেই আজহারকে মন্ত্রী করা নিয়ে রাজনৈতিক তরজায় জড়িয়েছে কংগ্রেস-বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, তোষণের রাজনীতি করছে কংগ্রেস তাই ভোটের আগে আজহারকে মন্ত্রী করা হয়েছে। হাত শিবিরের পালটা, মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই আজহারের মতো মুখকে ক্যাবিনেটে আনা হয়েছে। বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও আজহারকে মন্ত্রী করার প্রভাব পড়তে পারে।

