স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ২৫ নভেম্বর: ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ভয়াবহ হামলা শুরু করার পর থেকে ভূখণ্ডটিতে ত্রাণবাহী বৃহত্তম বহর প্রবেশ করেছে বলে ফিলিস্তিনের জন্য নিয়োজিত জাতিসংঘের সংস্থা ‘আনরা’ জানিয়েছে। শুক্রবার সেখানে মানবিক ত্রাণবাহী ১৩৭টি ট্রাক থেকে মালামাল খালাস করা হয়েছে বলে আনরা জানিয়েছে।গত ৭ অক্টোবর গাজার সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে ফিলিস্তিনি ছিটমহলটিকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
তারা গাজায় সব ধরনের প্রয়োজনী পণ্যসহ জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে গাজার বাসিন্দা ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি চরম সংকটে পড়ে। খাদ্য সংকট, পানি সংকট, জ্বালানি সংকটে ভূখণ্ডটিজুড়ে অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়।এর পাশাপাশি ইসরায়েলের অবিরাম বিমান, গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গাজার হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হতে থাকে। ৪৮ দিন ধরে তাদের একটানা হামলায় ১৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর কাতারের মধ্যেস্থায় চার দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইসরায়েল। এই যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইসরায়েল ও হামাস পরস্পর বন্দি বিনিময়ে সম্মত হওয়ার পাশাপাশি গাজায় মানবিক ত্রাণ ও জ্বালানি প্রবেশের অনুমতিও মেলে।
শুক্রবার গাজার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তারপর থেকে গাজায় ১৩৭টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করে। পাশাপাশি ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে এক লাখ ২৯ হাজার লিটার জ্বালানি সরবারাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আনরা।এসব জ্বালানি গাজার হাসপাতাল, টেলি যোগাযোগ পরিষেবা সচল করতে ও মানবিক ত্রাণ সরবরাহে নিয়োজিত যানবাহন চালাতে জরুরিভিত্তিতে ব্যবহার করা হবে বলে আনরা জানিয়েছে। এর আগে ইসরায়েল শুধু ২১ অক্টোবর গাজায় ২০টি জরুরি মানবিক ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দিয়েছিল।অথচ এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন গাজা ভূখণ্ডে জ্বালানিসহ অন্তত ৫০০ ট্রাক ত্রাণ সরবরাহ করা হতো। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে ত্রাণবাহী বৃহত্তম চালান গাজায় প্রবেশ করলেও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা অক্সফাম এই সরবরাহকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে উল্লেখ করেছে।