Friday, August 14, 2026
বাড়ি বিশ্ব সংবাদ কিশোরের বুদ্ধিমত্তায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল স্কুলবাস

কিশোরের বুদ্ধিমত্তায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল স্কুলবাস

কিশোরের বুদ্ধিমত্তায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল স্কুলবাস

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক,,২৯ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কার্টার মিডল স্কুলের ৬৬ শিক্ষার্থী ক্লাস শেষে স্কুলবাসে বাড়ি ফিরছিল। বাস চালাতে চালাতে হঠাৎই চালক অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁর জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। তিনি আর গাড়ির ব্রেক চেপে রাখতে পারছিলেন না। এমন অবস্থায় ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে ওই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।মিশিগানের ওয়ারেন শহরে স্কুলটির অবস্থান। গত বুধবার স্কুল থেকে ৬৬ শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাসটি যাত্রা করে। বাসের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, বাস চালানোর সময় চালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি তাঁর আসনে স্থির থাকতে পারছিলেন না। তাঁর শরীর দুলছিল। এরপর ওই বাসচালক ভালো বোধ করছেন না জানিয়ে স্কুলের কর্মকর্তাদের কাছে রেডিও বার্তা পাঠান। এর মধ্যে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে আসনের মধ্যে হেলে পড়েন। বাসটি সড়কে এলোমেলোভাবে চলছে দেখে বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকে।চালক থেকে পাঁচ সারি পেছনের আসনে বসে ছিল শিক্ষার্থী ডিলন রিভস। সে তখন সামনে এসে ব্রেক চেপে বাসটি থামিয়ে দেয়।বাসটিকে থামানোর পর ডিলন চিৎকার করে অন্যদের জরুরি সেবা বিভাগকে ৯১১-এ ফোন দিতে বলে।ওই বাসচালকের অসুস্থতার কারণ এখনো জানা যায়নি। গাড়ি চালানোর সময় অতীতে এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে পড়তে হয়নি।ডেট্রয়েট থেকে প্রায় ৩০ মিনিট দূরত্বে ওয়ারেন শহরের অবস্থান। এ ঘটনার পর ওয়ারেন শহরের বাসিন্দারা ডিলনকে বীর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।ওয়ারেনের কাউন্সিল সদস্য জোনাথন লাফেরটি এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘তোমার এ বীরত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা গর্বিত।’ঘটনার পর পুলিশ কর্মকর্তারা ডিলনের মা-বাবাকে ফোন দেন। ছেলে খারাপ কোনো কাজ করেছে ভেবে বিরক্তির সুরে তার বাবা পুলিশকে বলে ওঠেন, ‘কী ঘটিয়েছে সে?’তখন পুলিশ কর্মকর্তা ডিলনের বাবাকে বলেন, ‘না, আপনার ছেলে একজন বীর।’ডিলনের সৎমা ইরেটা রিভসও ফেসবুকে তার প্রশংসা করে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ও (ডিলন) বাড়িতে আছে এবং সবাই যে অক্ষত আছে, তা ডিলনের কারণেই সম্ভব হয়েছে। ডিলনের কাছে এটি সাধারণ একটি দিন। তবে ওর ধারণা নেই, কত মানুষ যে আজ ওকে নিয়ে গর্ব বোধ করছে।’

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha