Monday, February 6, 2023
বাড়িবিশ্ব সংবাদচীনে বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘সাদা কাগজ’ কেন

চীনে বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘সাদা কাগজ’ কেন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩০ নভেম্বর: শিনজিয়াংয়ে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় ‘শূন্য কোভিড’ নীতির কঠোর বিধিনিষেধকে দায়ী করে জনরোষ বেড়েই চলেছে চীনে; আর বিক্ষোভ দমাতে সরকারি বাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান সেই অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের স্মরণে রোববার সন্ধ্যায় সাংহাইয়ে জমায়েত হন বিক্ষোভকারীরা। তাদের হাতে ছিল সাদা কাগজ, যাতে লেখা ছিল না কিছু। মূলত বিক্ষোভকারীরা খালি কাগজ তুলে ধরে সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্ন এক প্রতিবাদ দেখিয়েছেন।বিবিসি লিখেছে, প্রায়ই কোনো একটি উপকরণ গোটা আন্দোলনকে তুলে ধরে, আর চীনের এ আন্দোলনে সেই প্রতীক হয়ে উঠছে সাদা কাগজ।সাংহাইয়ের মত একইভাবে বেইজিংয়ের নামকরা সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও কাগজের টুকরা নিয়ে জমায়েত হন বিক্ষোভকারীরা। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ঝেজিয়াংয়ে উঝেনের রাস্তায় এক নারী কবজিতে শিকল, মুখে টেপ লাগানো এবং হাতে সাদা কাগজ নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।চীনে শি জিনপিংয়ের পদত্যাগের দাবিতে বা কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন বিক্ষোভ বিরল। কারণ সেখানে সরকারের সরাসরি কোনো সমালোচনার ফল হতে পারে কঠোর শাস্তি।

কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের ‘শূন্য কোভিড নীতি’ নিয়ে অসন্তোষ চলছে। এর মধ্যে গত ২৪ নভেম্বর শিনজিয়াংয়ে কঠোর লকডাউনে ঘরে বন্দি থাকার অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুতে বিক্ষোভ জোরালো হয়।আন্দোলনকারীরা এখন যেমন চীনের কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সাদা কাগজ তুলে ধরে যে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, এর আগে তেমন বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল ২০২০ সালে হংকংয়ে। সেখানেও জাতীয় নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদে সাদা কাগজ তুলে ধরে বিক্ষোভে অংশ নেয় মানুষ।২০১৯ সালের গণবিক্ষোভে হংকংয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল এবং সরকারি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন চালায়। তাদের স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়। ওই সাঁড়াশি অভিযান আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে খালি কাগজ তুলে ধরে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন, চীনে বিক্ষোভকারীদের এই প্রতিবাদ কেবল ‘ভিন্নমতের নীরবতা’ বোঝাচ্ছে না। এটি সরকারি কর্তৃপক্ষের জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ, কারণ তারা কার্যত প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে – ‘কোনোকিছু না বলার প্রতীক তুলে ধরার জন্যই আপনি আমাকে গ্রেপ্তার করতে যাচ্ছেন?’সাংহাইয়ে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া এক নারী বিবিসিকে বলেন, “কাগজে আসলেই কিছু ছিল না, তবে আমরা জানি সেখানে কী আছে।”বেইজিংয়ে বিক্ষোভকারী ২৬ বছর বয়সী জনি রয়টার্সকে বলেন, “আমরা যা বলতে পারি না, তার সবকিছুই তুলে ধরছে এই কাগজ।”

চীনের মিডিয়া বিশ্লেষক বিবিসির কেরি অ্যালেন তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, চীনের সেন্সরশিপ আরোপকারী কর্মকর্তারা দেশটির সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করে নজরদারি করেন। সেখানে এক কোটির মত পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। ‘ব্ল্যাঙ্ক শিট অব পেপার’ ও ‘হোয়াইট পেপার’ লিখে সার্চ দিলে খুব সামান্য ফলাফল দেখাচ্ছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেন্সরের বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। একজন লিখেছেন, “আপনি যদি একটি খালি কাগজে ভয় পান, তার মানে আপনি ভেতরে ভেতরেও দুর্বল।”বিবিসি লিখেছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তার কারণে’ সমস্ত ‘এ-ফোর’ আকারের কাগজ সরিয়ে নেওয়ারও গুজব রটেছে চীনে। তবে তা অস্বীকার করে কাগজ প্রস্তুতকারক সাংহাই এম অ্যান্ড জে স্টেশনারি বলেছে, তাদের উত্পাদন কার্যক্রম সব স্বাভাবিক। অনলাইনে ছড়ানো একটি ভুয়া নথির বিষয়ে তারা পুলিশকে অবহিতও করেছিল। ওই জাল নথিই কাগজ উৎপাদনকারী কোম্পানির ব্যাপারে গুজব ছড়িয়েছিল।একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে একজন বিক্ষোভকারীর হাত থেকে খালি কাগজ ছিনিয়ে নিচ্ছেন। ঘটনাটি চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর নানজিংয়ের ‘কমিউনিকেশন ইউনিভার্সিটি’ এলাকার বলে ধারণা দিয়েছে বিবিসি।শনিবার রাতের আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েক ডজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে সাদা কাগজের টুকরো তুলে ধরে নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন। এ ছাড়া সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু ছাত্রকে ফ্রাইডম্যানের সমীকরণ আঁকা কাগজের টুকরো ধরে থাকতে দেখা গেছে।চীনে বিক্ষোভে প্রতীক হিসাবে কাগজের ব্যবহার সাধারণ দৃশ্য। আধুনিক প্রতিবাদের এমন প্রতীক হিসাবে হংকংয়ে ছাতা, থাইল্যান্ডে রবারের হাঁস, বেলারুশে ফুলের মতো উপাদানগুলো ব্যবহৃত হয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য