Monday, December 15, 2025
বাড়িবিশ্ব সংবাদ‘সুপার টাইফুনের’ শক্তি নিয়ে ফিলিপিন্সের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে ফুং-ওং

‘সুপার টাইফুনের’ শক্তি নিয়ে ফিলিপিন্সের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে ফুং-ওং

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৮ নভেম্বর।। ফিলিপিন্সের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে যাওয়া টাইফুন ফুং-ওং এর প্রভাবে পাঁচ মিটার উচ্চতার প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাস ও ধ্বংসাত্মক ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া ব্যুরো। রোববার রাতে স্থলে উঠে আসার আগে তীব্রতা বদ্ধি পেয়ে ফুং-ওং ‘সুপার টাইফুনে’ রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছে রয়টার্স। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর পাগাসার আবহাওয়াবিদ বেনিসন ইস্তারেজা জানিয়েছেন, ১৫০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই বিশাল টাইফুনের প্রভাবে ইতোমধ্যে পূর্ব ফিলিপিন্সের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। “প্রায় পুরো দেশেই এর প্রভাব পড়তে পারে,” বলেন তিনি। স্থানীয়ভাবে ‘উয়ান’নাম পাওয়া টাইফুন ফুং –ওং এখন ঘণ্টায় একটানা ১৪০ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দমকা হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।

ইস্তারেজা জানিয়েছেন, স্থলভাগের কাছাকাছি আসতে আসতে এর তীব্রতা বেড়ে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার হয়ে যেতে পারে, যা ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং গাছপালা ও অবকাঠামো উপড়ে ফেলার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

ফুং-ওং এর প্রভাবে পূর্বাঞ্চলীয় বিকল অঞ্চল ও পাশাপাশি সামার অঞ্চলের কিছু অংশে সর্বোচ্চ ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়বে। ঝড়টির এগিয়ে যাওয়া পথে উত্তর ও মধ্য লুজন অঞ্চলে ১০০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পাগাসা নিম্নাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং সমুদ্রে মাছ ধরাসহ সব ধরনের তৎপরতা বন্ধ রাখতে বলেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, ধ্বংসাত্মক জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকাগুলো তলিয়ে যেতে পারে এবং এলাকাগুলোর ওপর দিয়ে প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যেতে পারে।

ফুং-ওং স্থলে উঠে আসার আগে পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থানীয় সরকার সোমবারের সব ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফিলিপিন্সের জাতীয় বিমান সংস্থা কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে।

গত সপ্তাহেই টাইফুন কালমায়েগি ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামে তাণ্ডব চালিয়েছে। ওই ঝড়ে ফিলিপিন্সে ২০৪ জন ও ভিয়েতনামে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে লাখো পরিবার। ভিয়েতনামের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, প্রায় ২৮০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাঁচ লাখ মানুষ এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। ফিলিপিন্সে বন্যায় বহু ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, ধ্বংসাবশেষ ও আবর্জনায় রাস্তাগুলো আটকা পড়ে গেছে। কালমায়েগির অবশিষ্টাংশের প্রভাবে থাইল্যান্ডের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি অংশে ভারি বৃষ্টি ও আংশিক বন্যা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে কালমায়েগির মতো ঝড়ের মাত্রা ও ধ্বংসক্ষমতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য