স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৫ সেপ্টেম্বর।। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, ইউক্রেইনকে যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২৬ টি পশ্চিমা মিত্র দেশ। যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে সমঝোতা হওয়ার পরদিন থেকেই এই দেশগুলো ‘স্থল, সাগর ও আকাশপথে’ ইউক্রেইনে সেনা মোতায়েন করতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের এলিসি প্রাসাদে ৩৫ টি দেশের ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ এর সম্মেলন শেষে মাক্রোঁ একথা জানান। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে শান্তি প্রক্রিয়ায় দেরি করা এবং ইউক্রেইনের আরও ভূমি দখলের জন্য সময় ক্ষেপণের চেষ্টার অভিযোগও করেন। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর থেকে ইউক্রেইন এবং রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে বৈঠক হওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প ফোনে কথা বলেছেন। এরপর মাক্রোঁ জানান, ইউক্রেইনকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনগুলোতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রকাশ্যে খুব কম দেশই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে ইউক্রেইনে স্থলসেনা মোতায়েনের প্রুতিশ্রুতি দিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইউক্রেইনে সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপ নাকচ করে দিয়েছে। তবে মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ এর নেতারা চাইছেন ইউক্রেইনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলতে এবং এ পদক্ষেপে ট্রাম্পকেও সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানাতে চান তারা। কারণ, নিরাপত্তার এই নিশ্চয়তা কার্যকরের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেইনকে ইউরোপের সমর্থনের বিষয়ে আশ্বস্ত করতে এবং ভবিষ্যতে রাশিয়া যাতে আবার এমন যুদ্ধ শুরু না করতে পারে, সেজন্য এই নিরাপত্তার নিশ্চয়তার ব্যবস্থা কারতে ইচ্ছুক ইউরোপীয় দেশগুলো। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ রাজধানী প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “সংঘাত যেদিনই বন্ধ হবে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে সেনা মোতায়েন শুরু হয়ে যাবে।”
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তি এখনও অনেক দূর বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধ যখনই শেষ হোক, তারা প্রস্তুত থাকতে চাইছেন। মাক্রোঁ ২৬ টি দেশের নাম বলেননি। প্রাথমিকভাবে তিনি কেবল বলেছেন, ২৬ টি দেশ ইউক্রেইনে সেনা মোতায়েন করবে। তবে পরে তিনি এও বলেন যে, কিছু দেশ ইউক্রেইনের বাইরে থেকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবে। যেমন ইউক্রেইনের সেনাদের প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং ইউক্রেইনের বাহিনীকে অস্ত্রে সুসজ্জিত করা। এসব কাজে কতজন সেনা জড়িত থাকবে তাও বলেননি মাক্রোঁ। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে ইউক্রেইনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে ইচ্ছুক সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
ওদিকে, রাশিয়া আগেই ইউক্রেইনের মাটিতে কোনও পশ্চিমা দেশের সেনা উপস্থিতি থাকতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

